বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা

খাবার দোকানে ভিড়, বেশি দামের অভিযোগ

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:৪০

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার খাবার দোকানে উপচেপড়া ভিড়। মেলায় এসে দর্শনার্থীরা পণ্য না কিনলেও খেতে কেউ ভুল করেন না। ঘোরাঘুরি আর কেনাকাটার পাশাপাশি খাওয়া-দাওয়া চলে নিয়মিত। মেলায় খাবারের স্টলগুলোতে ভোজনরসিকদের অনেক ভিড়। আনাগোনা এতটাই বেশি যে, খেতে বসার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। তবে কোনো কোনো স্টলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রি হচ্ছে। খাবার সরবরাহের পাশাপাশি দাম বেশি রাখার অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত জমজমাট থাকে খাবারের স্টলগুলো। বসার স্থান না পেয়ে অনেকেই দাঁড়িয়ে সেরে নেন খাওয়ার কাজ। এবারের মেলায় ফুড বাংলো, সুলতান কাচ্চি, লাইবা রেস্টুরেন্ট, পুরান ঢাকার শাহি বিরিয়ানি, হাজির বিরিয়ানি, পুরান ঢাকার চিংড়ি ঝালফ্রাই, কস্তুরি কাবাবসহ বেশকিছু খাবারের স্টল রয়েছে। মেলায় বিভিন্ন খাবারের মধ্যে কাবাব, চিকেন মাসালা, বিরিয়ানি, হাঁসের মাংস, কাচ্চি, রাজাবাবুর চা ও তান্দুরি চায়ের চাহিদা বেশি। এছাড়া চিকেন বিরিয়ানি, চিকেন শাসলিক, ফালুদা, বিফ কাচ্চি, মাংস, সবজি, বডি কাবাব, মাটন হালিম, ফ্রাইড চিকেন, লাচ্ছি, নুডুলস, চিকেন চাপ, মাছ, কফি, মাটন কাচ্চি, জুস, ফুসকা, চিকেন গ্রিল, ডাল-পরাটা, ভাত, পানীয়, চটপটি, কাবাব ও খিচুড়ি থেকে শুরু করে থাই স্যুপের বেশি চাহিদা রয়েছে। তবে লুচি আর চিকেন চাপের চাহিদা বেশি। অনেকেই মাটির পাত্রে স্পেশাল চা, রাজাবাবুর চা ও তান্দুরি চা খেতে স্টলগুলোতে ভিড় জমান।

হাজি বিরিয়ানির রেস্টুরেন্টের বিক্রয় প্রতিনিধি আশরাফ আলী বলেন, মেলায় ঘোরাঘুরি আর ছবি তোলার সঙ্গে খাওয়া যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। মেলায় এসে সবাই কিছু না কিছু খেয়ে বাসায় ফেরেন। সে কারণে খাবারের স্টলে ভিড় লেগেই থাকে। অন্যান্য খাবারের চাহিদা থাকলেও পরিবেশসম্মত দেশীয় খাবারের চাহিদাই বেশি। পুরান ঢাকার হাজি বিরিয়ানির বিক্রয় প্রতিনিধি আব্দুস সালাম বলেন, দুপুর ও রাতের খাবার হিসেবেও মেলার দর্শনার্থীরা তার দোকানে ভিড় করছেন। বিসমিল্লাহ ফুড প্রোডাক্টের বিক্রয় প্রতিনিধি কলিমউদ্দিন বলেন, দাম তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় চিকেন চাপ, লুচি ও রুটির চাহিদা বেশি। সেভয় আইসক্রিমের বিক্রয় প্রতিনিধি আকলিমা আক্তার বলেন, সেভয় আইসক্রিম ও ফাস্টফুড জাতীয় খাবার শিশুদের আকৃষ্ট করছে। বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর। স্টার কাবাবের বিক্রয় প্রতিনিধি আব্দুল গাফ্ফার বলেন, ভোক্তারা চাহিদার কথা বিবেচনা করেই বিভিন্ন ধরনের খাবার বিক্রি করা হচ্ছে। নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী, প্রতিদিন তাদের খাবার রসনাবিলাসীদের মধ্যে সরবরাহ করা হয়।

রাজধানীর কমলাপুর থেকে সপরিবারে মেলায় ঘুরতে আসা এক গৃহবধূ বলেন, স্টলগুলোতে খাবারের দাম বেশি। খাবারের মান ও পরিমাণ অনুযায়ী দাম আরেকটু কম হওয়া উচিত। রাজধানীর খিলক্ষেত থেকে মেলায় আসা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক ছাত্রী বলেন, স্টলগুলোতে খাবারের বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে। অধিকাংশ স্টলে মূল্যতালিকা নেই। আবার কেউ কেউ তালিকায় নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও খাবারের দাম বেশি রাখছেন। কেউ কেউ খাবার খেয়ে বিল দিতে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। কেউবা খাবারের পর বিলের রসিদ দিচ্ছেন না। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নাম না প্রকাশের শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, খাবারের মূল্যতালিকা প্রদর্শন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা প্রদর্শন করা না হলে কিংবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি করা কিংবা খাবারের দাম বেশি রাখা হলে আইনের আওতায় আনা হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন