রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

জাবিতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

মোস্তাফিজুর-মুরাদদের শেল্টারে ক্যাম্পাসে ইয়াবা বিক্রি করতেন মামুন

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:০৭

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মূল পরিকল্পনাকারী মামুনুর রশিদ ওরফে মামুন বহিরাগত হলেও দীর্ঘদিন ধরে সে ক্যাম্পাসে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। কক্সবাজার থেকে ইয়াবা এনে ক্যাম্পাসে বিক্রি করত। জাবি ক্যাম্পাস ছিল তার মাদক বিক্রির মূল জায়গা। মাদক কারবারি মামুন ২০১৭ সাল থেকে ক্যাম্পাসের প্রভাবশালী সিনিয়র শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় ক্যাম্পাসে মাদক ব্যবসা করত। মামুনকে গ্রেফতারের পর গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কাওরান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে র‍্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের ‘এ’ ব্লকের ৩১৭ নম্বর কক্ষে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মামুনুর রশিদ ওরফে মামুনকে বুধবার রাতে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকা থেকে এবং তার অন্যতম সহায়তাকারী মো. মুরাদকে নওগাঁ থেকে গ্রেফতার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক মুরাদ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার আমন্ত গ্রামে।

র‍্যাব জানায়, ঘটনার রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের হল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চার জনকে আটক করে। ঐ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে ঢাকার আশুলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।

আল মঈন জানান, মামুন প্রায় ছয়/সাত বছর যাবত্ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে প্রতি মাসে কয়েক দফায় প্রায় ৭/৮ হাজার ইয়াবা এনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকাসহ মাদকাসক্ত শিক্ষার্থীকে সরবরাহ করত। এছাড়া মামুন জাবি এলাকায় মাদক বিক্রির সুবাদে মামলার ১ নম্বর আসামি ছাত্রলীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমানসহ বেশ কয়েক জন সিনিয়র ছাত্রের সঙ্গে তার সখ্য তৈরি হয়। মাঝে মাঝে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে মাদকসহ রাত যাপন করত। তখন ছাত্রদের সঙ্গে সে মাদক সেবনও করত। একই এলাকায় বসবাসের কারণে তিন/চার বছর আগে মামুনের সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর স্বামীর পরিচয় হয়। সে ভুক্তভোগীর ভাড়া বাসায় সাবলেট হিসেবে প্রায় তিন/চার মাস অবস্থান করায় তাদের মধ্যে সখ্য তৈরি হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব জানায়, ঘটনার আগে মামলার ১ নম্বর আসামি মোস্তাফিজুর রহমান অনৈতিক কাজের ইচ্ছা পোষণ করে মামুনের কাছে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, মামুন গত ৩ ফেব্রুয়ারি বিকালে ভুক্তভোগীর স্বামীকে ফোন দিয়ে জানায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মোস্তাফিজুর নামে এক বড় ভাই তার জন্য হলে থাকার ব্যবস্থা করেছে। এখন থেকে সে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকবে। তাই মোস্তাফিজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে বলে ঐ নারীর স্বামীকে জাবি ক্যাম্পাসে আসতে বলে মামুন। মামুনের কথা মতো ঐ দিন সন্ধ্যার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের ৩১৭ নম্বর কক্ষে দেখা করেন ঐ নারীর স্বামী। সেখানে তাকে মোস্তাফিজ, মুরাদ, সাব্বির, সাগর সিদ্দিক ও হাসানুজ্জামানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন মামুন।

অভিযুক্ত মামুন কৌশলে ভুক্তভোগীর স্বামীকে তাদের বাসায় থাকাকালীন তার ব্যবহূত কাপড়চোপড় হলে নিয়ে আসার জন্য তার স্ত্রীকে (ভিকটিম) ফোন দিতে বলেন। স্বামীর ফোন পেয়ে একটি ব্যাগে করে মামুনের ব্যবহূত কাপড় নিয়ে রাত ৯টার দিকে মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে উপস্থিত হন ঐ নারী। পরে মামুন ও মোস্তাফিজ ভিকটিমকে কৌশলে হলের পাশে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে পর্যায়ক্রমে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা জানতে পেরে ঐ নারীর স্বামী থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের দেওয়া তথ্যের বরাতে কমান্ডার মঈন বলেন,  মামুনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মাদক সংক্রান্তে আটটি মামলা রয়েছে। এর আগে এসব মামলায় সে একাধিকবার কারাভোগ করেছে। আসামি মুরাদের বিরুদ্ধে নওগাঁ থানায় মারামারির অভিযোগে একটি জিডি রয়েছে বলে জানা যায়। ৩১৭ নম্বর কক্ষটি তার নামে বরাদ্দ হলেও সে থাকত অন্য কক্ষে।

ইত্তেফাক/এএইচপি