বাংলাদেশকে ৩১৪ রানের টার্গেট দিয়েছিল ভারত। এই টার্গেট চেজ করার মতো ছিল বলে বিশ্বাস করেন সৌম্য সরকার। কিন্তু তারপরও পারলো না বাংলাদেশ। কেন পারলো না, তার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সৌম্য বলেন, ‘বড়ো কোনো পার্টনারশিপ গড়ে ওঠার আগেই উইকেট পড়ে যাচ্ছিল। এটাই পরাজয়ের বড়ো কারণ।’
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘আমরা যে কয়জন সেট হয়ে আউট হয়ে গিয়েছি তাদের মধ্যে কেউ যদি বড় ইনিংস খেলতে পারতো তাহলে জিততে পারতাম। পরিকল্পনা ছিল পজিটিভ খেলে ম্যাচ জেতার। আমি আর তামিম ভাই যখন শুরু করলাম ভালোই হচ্ছিল। তামিম ভাই আউট হওয়ার কিছুক্ষণ পর আমি যখন আউট হয়ে গেলাম তখন আমার কাছে মনে হচ্ছিল যে আমাদের মধ্যে কেউ যদি একটা লম্বা ইনিংস খেলতে পারতাম তাহলে মনে হয় বিষয়টা আরো সহজ হতো। শেষে যখন সাইফউদ্দিন খেলছিল তখনও কিন্তু ম্যাচটা আমাদের হাতেই ছিল। বল থেকে রান কিছু বেশি দরকার ছিল। উইকেট হাতে থাকলে আর শুরুতে একটা বড়ো রান হলে টার্গেটটা চেজ করতে পারতাম।’
ছয়জন ব্যাটসম্যান খুব বাজেভাবে আউট হয়েছেন। এটা কি এমন চাপের কারণে হয়েছে যে ম্যাচটা আমাদের জিততেই হবে। না জিতলে আমরা সেমিফাইনালে উঠতে পারবো না। সৌম্য বলেন, ‘বিষয়টা সেইরকম না। আমরাতো জেতার জন্যই নেমেছি। কেউতো আর হারার জন্য খেলে না। সবাই পজিটিভ ছিল। কিন্তু যখনই একটা পার্টনারশিপ হচ্ছিল তখনই উইকেট পড়ে যাচ্ছিল।’
এই বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ কী পেলো এমন প্রশ্নের উত্তরে সৌম্য বলেন, ‘আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি। সবচেয়ে বড়ো অর্জন এটাই যে আমরা ৩০০ বা তার চেয়ে বড়ো রান চেজ করতে পারি, এমন বিশ্বাস তৈরি হয়েছে। যেগুলো হেরেছি সেগুলো খুব কাছাকাছি গিয়ে হেরেছি।’
আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে তিন ম্যাচ খেলে তিনটিতেই ফিফটি করেছিলেন। আশা ছিল সৌম্য বিশ্বকাপে তার চেয়েও ভালো কিছু করবে। কিন্তু তা না হওয়ার কারণটা কি? সৌম্য বলেন, ‘ত্রিদেশীয় সিরিজে তিনটা ফিফটি করার পর একটা আক্ষেপ থেকে গিয়েছিল যে একটা সেঞ্চুরি কেন করতে পারলাম না। আর বিশ্বকাপে আক্ষেপ থাকলো যে ৩০-৪০ করলাম ৫০ কেন করতে পারলাম না। বড় আসরে বড় কিছু করতে পারলে আরো ভালো লাগতো।’
দলে পাঁচজন পেসার থাকার পরেও কয়েকটা ম্যাচে সৌম্যকে বল করতে হয়েছে। এটা কতখানি চ্যালেঞ্জিং ছিল সৌম্যর জন্য। বলেন, ‘এখানে আসার আগে প্রিমিয়ার লিগে আমি নিয়মিত বল করেছি। আমি সবসময় প্রস্তুত থেকেছি বোলিং করার জন্য। যেদিন সুযোগ পাব সেদিন যেন নিজেকে প্রমাণ করতে পারি।’
