চর কালিদাসগাঁতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
মাহমুদুল কবীর, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের ১০৯ নম্বর চর কালিদাসগাঁতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের তীব্র সংকটসহ নানা সমস্যায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একটি দ্বিতল ভবনে জরাজীর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একটি টিনসেড ঘরও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশু শিক্ষার্থীরা স্কুলে ক্লাস করছে। শিক্ষকরাও ঝুঁকি নিয়ে সারাদিন পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
১৯২১ সালে এই এলাকার শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের উদ্যোগে চর কালিদাসগাঁতী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘোষণায় স্কুলটি জাতীয়করণ করা হয়।
১৯৯২ সালে একটি টিনসেড ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল সেটির অবস্থা খুবই নাজুক। ২০০৩ সালে একটি চার কক্ষের দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। সেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন ছাদের প্লাস্টার ভেঙে পড়ছে। চরম ঝুঁকি নিয়ে এ ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে।
এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৬০০ ছাত্রছাত্রী রয়েছে। এখানে ১৪ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। ১৪ জনের ১২ জন নারী শিক্ষিকার জন্য নেই বসার কক্ষ। এমনকি টয়লেট পর্যন্ত নেই। দ্বিতল ভবনে মাত্র একটি টয়লেট রয়েছে। সেটিও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নারী শিক্ষকরা পাশের বাড়িতে গিয়েই জরুরি কাজ সমাধান করেন। আসবাবপত্রের সংকট তীব্র। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের বসার বেঞ্চের অভাব তীব্র।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, জরাজীর্ণ ভবনটি নিয়ে তিনি প্রতিদিন দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়ে স্কুলে আসেন। কখন ছাদ ধসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে। এই বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো নিয়ে বার বার পত্র দিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে। ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই শিশুরা ক্লাস করছে।
