সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন

শত বাধা সত্ত্বেও বিশ্বস্ততার প্রমাণ দিলেন ইমরানপন্থিরা

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬:০৬

এই পর্যন্ত পাকিস্তানের নির্বাচনের ফলাফল একদিক থেকে পরিষ্কার, অন্যদিক থেকে জটিল। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আসন পেয়েছে। এদের অনেকেই পিটিআই দলের ব্যানারে নির্বাচন করতেন। কিন্তু তা করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল বিভিন্ন আইনি মারপ্যাঁচে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বতন্ত্রদের কোনো দল নেই-এই যুক্তিতে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নওয়াজ শরীফের পিএমএল-এন বর্তমানে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে দাবি করতেই পারে।

এতকিছুর পর যা স্পষ্ট হয়েছে, তা হলো-ইমরান খানের পিটিআই দল প্রমাণ করেছে তার জনপ্রিয়তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বুদ্‌বুদ নয়। ইমরানের একটি প্রকৃত এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে।

নেতাদের নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞা, জেল, জরিমানা, প্রতীক বাতিলসহ নানা চড়াই-উৎরায় পাড়ি দিয়ে আলাদা আলাদা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা সত্ত্বেও আসন সংখ্যায় এগিয়ে আছে ইমরান সমর্থিত প্রার্থীরাই।

ইমরানকে ২০২২ সালে তার বিরোধিরা প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। এরপর বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত করা হয়ে তাকে। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে সব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

কিছু প্রার্থী জেলে এবং অন্যরা আত্মগোপনে থাকায় স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধ্য হওয়ার কারণে পিটিআই-এর প্রার্থীরা বড় কোনো সমাবেশই করতে পারেনি।

দলটির দাবি, তার সমর্থকদের ভয় দেখানো হয়েছে এবং পুলিশ তাদের প্রচারণা চালানোর সময় তুলে নিয়ে গেছে অনেককেই। যদিও এসব অভিযোগ কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই অস্বীকার করে এসেছে।

এত কিছুর পরেও, পিটিআই-সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা অন্য যেকোনো দলের চেয়ে বেশি আসন জিতেছে বলে মনে হচ্ছে।

আসনের হিসেবে দ্বিতীয় স্থানে থাকা পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএলএন) চেয়ারম্যান নওয়াজ শরীফ ইতিমধ্যে সরকার গঠনের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে জোট গঠনের তৎপরতাও শুরু করেছেন তিনি।

পিএমএল-এন সভাপতি শাহবাজ শরীফ তৃতীয় স্থানে থাকা পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে দেখা করে পিএমএল-এন ও পিপিপি ৪৫ মিনিটের এক বৈঠক করেন। বৈঠকে তারা কেন্দ্রে ও পাঞ্জাবে জোট সরকার গঠনে সম্মত হয়েছেন।

আসল জটিলতা হল এর পরের কী ঘটবে তা নিয়ে। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা ফলাফল চ্যালেঞ্জ করায় নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে এটিই একমাত্র লক্ষণীয় বিষয় নয়। পাকিস্তানে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করার মুহূর্ত থেকে ৩ দিনের মধ্যে একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে হবে। অথবা তাদের স্বতন্ত্রই থাকতে হবে।

তাই ঝুঁকি এড়াতে পিটিআইকে শিগরিই একটি সমাধানের পথ খুঁজে করতে হবে।

ইত্তেফাক/এনএন