বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

নোটবুকে আর লিখবে না ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ

c

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:২৭

হিন্দ রজবের মা উইসাম এখনও তার মেয়ের জন্য অপেক্ষা করছেন। হাতে মেয়ের ছোট্ট গোলাপি রঙের ব্যাগ। ব্যাগের ভেতর হিন্দের ছোট্ট নোটবুক। সেই নোটবুকে লেখার চর্চা করত শিশু হিন্দ। আর লিখবে না ছয় বছরের শিশু হিন্দ।

গত ৩১ জানুয়ারি 'কী আছে শিশু হিন্দের ভাগ্যে?' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইত্তেফাক। সেখানে দেখা যায়, গাড়ির ভেতরেই গুলি করে মারা হয়েছে হিন্দ রজবের চাচা-চাচী, তিন চাচাতো ভাইবোনকে। পরিবারের মৃত সদস্যদের স্তুপের মধ্যে বেঁচে ছিল শুধু হিন্দ।

ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (পিআরসিএস) হিন্দের একটি অডিও কলের রেকর্ডিং প্রকাশ করে। সেখানে সাহায্যের আবেদন করছিল শিশু হিন্দ। সে জানায়, গাজা শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার শিকার একটি গাড়িতে আটকা পড়ে তার পরিবার। ইসরায়েলি বাহিনীর অতর্কিত হামলায় পরিবারের সবাই মারা যায়। পিআরসিএসে কল করে সাহায্যের আবেদন করার সময়ই কল চলাকালেই গুলির শব্দে চুপ হয়ে যায় হিন্দ।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, পিআরসিএস দল তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করছিল। কিছুক্ষণের মধ্যে পিআরসিএস উদ্ধারকারী দলের সঙ্গেও যোগাযোগ হারিয়ে ফেলে।

আজ বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গতকাল শনিবার (১০ জানুয়ারি) পিআরসিএস ওই এলাকায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়। সেখানে শিশু হিন্দ রজবকে পরিবারের বাকী সদস্যদের সঙ্গে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

হিন্দরা যে গাড়িতে ছিল- সেই গাড়িতে অসংখ্য বুলেটের ছিদ্র দেখা গেছে। গাড়ির কাঁচ, ড্যাশবোর্ড সম্পূর্ণ গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই গাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে হিন্দ রজবকে। ছবি: বিবিসি

হিন্দদের গাড়ির অদূরে আরেকটি গাড়ির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। পিআরসিএস জানায়, ওই গাড়িটি ছিল হিন্দকে উদ্ধার করতে পাঠানো অ্যাম্বুলেন্স। ইসরায়েলি বাহিনীর বোমা হামলার সময় অ্যাম্বুলেন্সটির চালক ইউসুফ আল-জেইনো এবং আহমেদ আল-মাদৌন নিহত হয়েছেন।

সংস্থাটি বলছে, হিন্দকে উদ্ধারের অনুমতি নিয়ে ওই এলাকায় যাওয়ার পরেও ইসরায়েলি বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে অ্যাম্বুলেন্সে বোমা হামলা করেছে।

ইসরায়েলি বাহিনীর বোমা হামলা ধ্বংস হওয়া উদ্ধারকারী অ্যাম্বুলেন্স। এতে দুই উদ্ধারকর্মীও নিহত হন। ছবি: বিবিসি।

হিন্দের মা উইসাম বলেন, " প্রত্যেক ব্যক্তি আমার মেয়ের আকুল কণ্ঠস্বর শুনেছে, তবুও তাকে উদ্ধার করা হয়নি। শেষ বিচারের দিন আমি তাদের সৃষ্টিকর্তার সামনে জিজ্ঞাসাবাদ করব। যারা আমাদের বিরুদ্ধে, গাজা এবং এর জনগণের বিরুদ্ধে সহযোগিতা করেছে, আমি আমার হৃদয়ের গভীর থেকে তাদের অভিশাপ দিচ্ছি।"

উইসামের প্রশ্ন, "আর কত মাকে এই যন্ত্রণা দিতে চাও তোমরা? আর কত শিশু হত্যা করে ক্ষান্ত হবে তোমরা?"

হিন্দের নিখোঁজ হওয়া এবং উদ্ধারকারী অ্যাম্বুলেন্সের ব্যাপারে জানতে চেয়ে বিবিসি ইসরায়েলি বাহিনীর সাথে দুইবার যোগাযোগ করেও কোনো সদুত্তর পায়নি।

ইত্তেফাক/এনএন