বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

‌‘পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অপরাধীদের দমন করা সম্ভব’

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৩:৪৪

মাদারীপুরের শিবচর ও রাজৈর উপজেলার প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে পুলিশের সরাসরি যোগাযোগের জন্য এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিতকল্পে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজার, বাসস্ট্যান্ড এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সার্কেল অফিসার, ওসি, ডিউটি অফিসার এবং থানা পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ও ইমারজেন্সি নাম্বার প্রদান করা হয়েছে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে চুরি, ডাকাতি, মাদক সেবন ও বিক্রি, মারামারি, দস্যুতা, দাঙ্গা, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, ইভটিজিং, খুন, আত্মহত্যা, সড়ক দুর্ঘটনাসহ যেকোনো অপরাধের সংবাদ দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করুন।

শুক্রবার সরেজমিনে শিবচর ও রাজৈর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও হাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাদারীপুর জেলা পুলিশ শিবচর সার্কেল এর উদ্যোগে যে বিলবোর্ড টানানো হয়েছে তা থেকে নাম্বার নিয়ে করিম নামে এক যুবক তাৎক্ষণিক শিবচর থানার ওসিকে ফোন দিয়ে বলেন, স্যার আমাদের এলাকায় মারামারি হচ্ছে পুলিশ পাঠান। অপরদিকে সুমি আক্তার নামে আরেকজন রাজৈর থানার ওসিকে ফোন দিয়ে বলছে, স্যার আমার মেয়ে স্কুলে যাওয়ার সময়ে কে যেন খারাপ কথা বলেছে, আপনি এই ব্যাপারটা একটু দেখেন। শুধু করিম বা সুমি নয় এভাবে প্রতিদিন কয়েকশত লোক বিভিন্ন প্রয়োজনে সার্কেল অফিসার, ওসি, ডিউটি অফিসারকে ফোন দিচ্ছে। আগে সার্কেল অফিসার, ওসি, ডিউটি অফিসারকে ফোন দিতে হলে বিভিন্ন জনকে তোষামতি করে নাম্বার আনতে হতো। এখন বিলবোর্ড এর ভিতরে সব নাম্বার দেওয়া আছে। যখন তখন পুলিশের অফিসারদের ফোন দেওয়া যায়। পুলিশের সেবা এখন হাতে নাগালে পাওয়া যাচ্ছে।

সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর ও রাজৈর সার্কেল) রব্বানী হোসেন বলেন, আমি শিবচর সার্কেল অফিসে সহকারী পুলিশ সুপার হিসাবে গত পাঁচ মাস আগে যোগদান করেছি। যোগদান করার পর মাদারীপুর পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম স্যারের নির্দেশনায় ঘরে ঘরে পুলিশের নাম্বার পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম গ্রহণ করি। তারই ধারাবাহিকতায় প্রত্যেক বাজার এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিলবোর্ডের মাধ্যমে পুলিশের নাম্বারগুলো এবং সেখানে আমার নাম্বারসহ থানার গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার রয়েছে। যাতে মানুষ বিপদ বা যে কোনো অপরাধ সংগঠিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের সহযোগিতা পায় বা পুলিশকে জানাতে পারে এবং পুলিশ খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌছাতে পারে। আপনারা এই নাম্বারগুলিতে যে কোনো ধরনের অপরাধ-মাদক, জুয়া, মারামারি, খুন, নারী নির্যাতন, যে কোনো অপরাধ সংগঠিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই নাম্বারগুলোতে যোগাযোগ করবেন এবং আমরা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সেখানে পৌছে যাব। মানে হচ্ছে যে, প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং প্রত্যেকটা গ্রামের মানুষ যেন পুলিশের সঙ্গে one to one connection রাখতে পারে। That's why, আমরা এই নাম্বারগুলো ঘরে ঘরে লিফলেটের মাধ্যমে দেওয়া হবে। আপাতত প্রত্যেকটা বাজারগুলোতে বিলবোর্ডের মাধ্যমে এই নাম্বারগুলো বিতরণ কার্যক্রম চলমান আছে।

 

ইত্তেফাক/পিও