বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র আটকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

মানিকগঞ্জের জান্না আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:০০

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র আটকে প্রতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার জান্না আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর নিয়মিত ১২৪ জন আরপি ৩০ জনসহ মোট ১৫৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা করে আদায় করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। টাকা না দিলে তাদের এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র আটকে রাখা হচ্ছে।

উপজেলার জান্না গুনিপাড়া গ্রামের পরীক্ষার্থী লিমা আক্তার ও শিউলী আক্তার বলেন, গতকাল রবিবার সকালে আমরা আমাদের প্রবেশপত্র আনার জন্য স্কুলে যাই। আমাদের সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন স্যার এ সময় ৫০০ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় আমাদের প্রবেশপত্র আটক করে রাখেন। তারা আরও বলেন,  ৫০০ টাকা না দিলে কাউকে এবার প্রবেশপত্র দেওয়া হবে না। আমার পিতা একজন কৃষক মানুষ। এর আগে অনেক কষ্ট করে ৩ হাজার ৮০০ টাকা দিয়ে ফরম ফিলাপ করেছি। এখন ৫০০ টাকা দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই। তাই খালি হাতে চলে আসছি। পরীক্ষা দিতে পারব না ভেবে অনেক কষ্ট হচ্ছে। উল্লেখ্য এর আগে এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা আদায় করে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাটুরিয়ায় অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়ম বহির্ভূতভাবে এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র, কোচিং ও কেন্দ্র ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক জানান, তাদেরকে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে। তারা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানান।

এ বিষয়ে জান্না আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল আওয়াল ও সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, মডেল টেস্ট নেওয়া হয়েছে। সেই টাকার জন্য তাদের প্রবেশপত্র আটক করা হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শান্তা রহমানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

অপরদিকে এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

ইত্তেফাক/এমএএম