রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

ন্যাটোভুক্ত দেশে হামলা চালাতে রাশিয়াকে উৎসাহ দেবেন ট্রাম্প!

সমালোচনায় হোয়াইট হাউজ ও ইইউ

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:০১

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ন্যাটোভুক্ত যেসব দেশ প্রতিরক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ খরচ করবে না, সেসব দেশে রাশিয়া হামলা চালাতে চাইলে উত্সাহিত করা হবে। গত শনিবার দক্ষিণ ক্যারোলিনায় এক জনসভায় এমন মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

সামরিক জোট ন্যাটোতে যেসব দেশ রয়েছে সেসব দেশকে তাদের জিডিপির দুই শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করতে হয়। মূলত সামরিক দিক দিয়ে নিজেদের শক্তিশালী থাকতে এমন নিয়ম রাখা হয়েছে। 

আবারও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে আগ্রহী ট্রাম্প সমাবেশে জানান, ন্যাটোর একটি ‘বড় দেশের’ নেতা তাকে বলেছিলেন, রাশিয়া তার দেশের ওপর হামলা চালালে সাহায্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে আসবে কি না। জবাবে তিনি ঐ নেতাকে বলেছিলেন, আপনি অর্থ দেননি? আপনি কর্তব্যবিমুখ? না আমি আপনাকে রক্ষা করব না। এমনকি রাশিয়ার যা মনে চায় তা করতে তাদের আমি উদ্বুদ্ধ করব। আপনাকে অর্থ দিতে হবে। আপনাকে আপনার অর্থ পরিশোধ করতে হবে। ট্রাম্প এমন সময় এ মন্তব্য করেছেন, যখন কিছু পশ্চিমা দেশ আশঙ্কা করছে ইউক্রেনের পর এখন তাদের দেশে হামলা চালানোর নির্দেশ দিতে পারেন পুতিন। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় হুমকি দিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গঠিত ন্যাটো জোটের লক্ষ্য ছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের (বর্তমান রাশিয়া) আক্রমণ থেকে জোটের সদস্য দেশকে রক্ষা করা। এটির মূলনীতি হলো, যদি জোটের কোনো দেশ হামলার শিকার হয়, তাহলে সবাই একসঙ্গে তার পক্ষে লড়বে।

হোয়াইট হাউজ ও ইইউ নেতাদের সমালোচনা

ন্যাটো নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা করে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু বেটস বলেছেন, হত্যাকারী রেজিমকে আমাদের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের ওপর আক্রমণ করতে উত্সাহিত করা ভয়ংকর বিষয়। এটি আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা এবং আমাদের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে বিপন্ন করবে। 

অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দুই কর্মকর্তা ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছেন, আমরাই-বা সেই নির্বাচনের ওপর নির্ভর করে প্রতি চার বছরে আমাদের নিরাপত্তা সম্পর্কে একটি মুদ্রা উলটাতে পারি না। ইইউ নেতারা বুঝতে পেরেছেন যে, এই ব্লকের নিজস্ব সামরিক ব্যয় এবং সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

ইত্তেফাক/এএইচপি