সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

ইউএস অ্যাগ্রিমেন্টের রাজশাহী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক ফাতেমা কারাগারে

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৫২

প্রতারক চক্রের তৈরি মোবাইল অ্যাপ ‘ইউএস অ্যাগ্রিমেন্ট’ এর রাজশাহী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক ফাতেমা তুজ জহুরা মিলিকে (৩২) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহীর গোদাগাড়ীর আমলী আদালতের বিচারক মো. লিটন হোসেন এই আদেশ দেন।

মামলার বাদী ইউসুফ আলীর আইনজীবী শামীম আখতার হৃদয় জানান, গোদাগাড়ী থানায় প্রতারণার মামলাটি দায়েরের পরই ফাতেমা তুজ জহুরা মিলি আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেন। সেদিন আদালতে বাদীপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। তাই আদালত আসামি ফাতেমাকে সোমবার পর্যন্ত জামিন দেন। একইসঙ্গে এ দিন বাদীপক্ষের উপস্থিতিতে শুনানি হবে বলেও সিদ্ধান্ত দেন আদালত।

সে অনুযায়ী আসামি ফাতেমা সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালতে হাজির হন। এ সময় তার আইনজীবী একরামুল হক ফাতেমার আবারও জামিনের প্রার্থনা করেন। তবে বাদীপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
 
আইনজীবী শামীম আখতার জানান, আসামি ফাতেমা ইউএস অ্যাগ্রিমেন্ট অ্যাপের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক। রাজশাহীতে যেখানে ঐ অ্যাপের সেমিনার হয়েছে, সেই সেমিনার তিনি পরিচালনা করেছেন। নিজে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে ভুক্তভোগীদের থেকে টাকাও নিয়েছেন। আদালত আমাদের বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়ে আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

‘ইউএস অ্যাগ্রিমেন্ট’ একটি বিদেশি অ্যাপ জানিয়ে প্রতারকেরা এখানে বিনিয়োগে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। এক লাখ টাকা বিনিয়োগে মাসে ১১ হাজার ২০০ টাকা মুনাফা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল তাদের। এই অ্যাপের রাজশাহী বিভাগীয় প্রধান ছিলেন কারাগারে যাওয়া আসামি ফাতেমার স্বামী ওয়াহেদুজ্জামান সোহাগ (৩৮)। তিনি বর্তমানে পলাতক।

রাজশাহীর অন্তত শতাধিক নারী-পুরুষ প্রায় ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। সারাদেশে এই অ্যাপে প্রায় ২ হাজার মানুষ বিনিয়োগ করে অন্তত ৩০০ কোটি টাকা খুইয়েছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানান। এই প্রতারণার বিষয়টি সামনে এলে গত ১৭ জানুয়ারি রাজশাহীর রাজপাড়া থানায় প্রথম একটি মামলা হয়। এরপর ২৩ জানুয়ারি গোদাগাড়ী থানায় আরেকটি মামলা হয়। এই মামলায় কারাগারে গেলেন আসামি ফাতেমা মিলি। এ নিয়ে রাজশাহীতে ৯টি মামলা হয়েছে। সব মামলায় ফাতেমা মিলি ও তার স্বামী আসামি। এ সব মামলা থানা পুলিশ ছাড়াও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে।

রাজপাড়া থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি দায়েরের পর রাজশাহী মহানগর পুলিশ আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ইমিগ্রেশন বিভাগে চিঠি দিয়েছে। এছাড়া তাদের ব্যাংক হিসাবে লেনদেন স্থগিত করতেও বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এই প্রতারণার ঘটনায় এ পর্যন্ত শুধু ফাতেমাই কারাগারে গেলেন। অন্য আসামিরা পলাতক।

ইত্তেফাক/পিও