বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

তাড়াশ প্রাণিসম্পদ দপ্তরে নেই চিকিৎসক, নেই ওষুধ 

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:৫০

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে দুই বছর ধরে নেই চিকিৎসক। এদিকে করোনা মহামারির পর থেকে গবাদিপশুর জরুরি ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। 

চিকিৎসক ও ওষুধ না থাকায় সরকারিভাবে ভেটেরিনারি চিকিৎসা ব্যবস্থা একেবারে বন্ধের উপক্রম হয়ে পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এফএআই ওরাফেল আহাম্মেদ। 

তিনি বলেন, ডাক্তার বিবেচনা করলে এখন একজনও নেই। এমন পরিস্থিতির মধ্যে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. অলিউল ইসলামকে তাড়াশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি কোন কোন সপ্তাহে অফিস করেন না। রায়গঞ্জেই থেকে যান। বিশেষ করে, করোনা মহামারির পর থেকে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির রোগব্যাধির চিকিৎসায় অত্যাবশ্যকীয় বেশ কয়েক ধরনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না হাসপাতালে। 

ভুক্তভোগী খামারিদের শান্তনা দেওয়ার মতো সামান্য কৃমিনাশক ওষুধ রয়েছে। কিন্তু গবাদিপশুর আঠালী পোকা মারা ওষুধ, এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকার রোগ বালাইয়ের সিরাপসহ অন্য কোনো ওষুধ নেই । চলতি অর্থ বছরে খুবই অল্প ওষুধ দেওয়া হয়েছে হাসপাতালে। এত কম ওষুধে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব না।

প্রাণিসম্পদ দপ্তরের চিকিৎসা সহকারী মো. জুয়েল ইসলাম বলেন, ডাক্তায় না থাকায় পশু-প্রাণি চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র তিনিই লিখে দিচ্ছেন। কিন্তু ওষুধ কিনতে হচ্ছে ভেটেনারি ওষুধের দোকান থেকে। এতে গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। 

জানা গেছে, এ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন, ইউএলএ, ভিএফএ, এফ.এ.(এ.আই), অফিস সহকারী, পিয়ন, ড্রেসার ও অফিস সহায়কের পদের আরও নয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারির পদ শূন্য রয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তাড়াশ সদর গ্রামের উত্তর ওয়াপদা বাঁধ পাড়ার লিমা খাতুন নামে একজন গৃহবধূ তিনটি ছাগল নিয়ে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেতরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তার ছাগলের পেট ফেঁপে উঠেছে। তিনি বলেন, হাসপাতালে ওষুধ নেই। ওষুধ লিখে দিয়ে বাইরের দোকান থেকে কিনে নিতে বললেন।

এবারের শীতেও চিকিৎসার অভাবে বেশ কিছু গরু-ছাগল মারা গেছে। গত বছরেও ভাইরাসজনিত গরুর লাম্পি স্কিন রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে এ উপজেলার ২৫৬ গ্রামে। কিন্তু চিকিৎসার অভাবে প্রায় অর্ধশতাধিক গরু গরু মারা যায়।

তাড়াশ পৌর এলাকার আসানবাড়ী গ্রামের শাহালম নামের একজন গরুর খামারি বলেন, শীতজনিত কারণে গবাদিপশু রোগবালাই বেড়েছে। জ্বর ও শর্দিতে আক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু কোনো চিকিৎসা পাচ্ছি না হাসপাতালে। আক্রান্ত পশুর মধ্যে বাছুর ও ছাগলের প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে।
 
তালম ইউনিয়নের মধ্যপাড়ার আবু হানিফ নামের একজন বলেন, শীতে ব্যাধি হয়ে আমার একটি বাছুর গরু ও দুইটি ছাগলের বাচ্চা মারা গেছে চিকিৎসার অভাবে।
 
আসানবাড়ী গ্রামের রেজাউল করিম বলেন, গত বছর লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের একটি গরু মারা গেছে আমার। তখন সরকারিভাবে কোনো চিকিৎসাসেবা পাইনি। 

একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম নামের আরেক কৃষক বলেন, লাম্পি স্কিন রোগে আমারও একটি গরু মারা যায় গত বছরে।

ক্ষতিগ্রস্থ গেহরস্ত ও খামারিদের আশঙ্কা,  তাড়াশ প্রাণিসম্পদ দপ্তরে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিকিৎসকসহ প্রয়োজন সংখ্যাক জনবল ও গবাদিপশুর চিকিৎসার ওষুধ দেওয়া না হলে বাধ্য হয়ে পশুপালন বাদ দিতে হবে। তখন কর্মহীন লোকজন বেড়ে যাবে। 

রায়গঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. অলিউল ইসলাম বলেন, সপ্তাহে একদিন অল্প সময়ের জন্য হলেও তিনি তাড়াশে অফিস করেন। 

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পাদ কর্মকর্তা ডা. মো. ওমর ফারুক বলেন, সচিব স্যার এসেছিলেন সিরাজগঞ্জে। আমি তার কাছে তাড়াশ প্রাণিসম্পদ দপ্তরের নানাবিধ সমস্যার কথা তুলে ধরেছি। তিনি সমাধানের আশ্বাস দিয়ে গেছেন।

সিরাজগঞ্জ-৩ (তাড়াশ, রায়গঞ্জ, সলঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আজিজ দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে যোগাযোগ করে একজন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে তাড়াশে ডাক্তার হিসাবে আনার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।

ইত্তেফাক/পিও