মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
অনাবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামে আউশ আবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকরা জমি তৈরি করতে পারছে না। জুনের মধ্যে আউশ রোপণ করা না গেলে ভালো ফলন উত্পাদন করা সম্ভব হয় না। কিন্তু এখনও চট্টগ্রামে আউশের টার্গেটের অর্ধেক চাষও হয়নি। অনেকেই পাহাড়ি ছরা ও নলকূপের পানি দিয়ে আউশ রোপণ করেছে বলে কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এবার চট্টগ্রাম জেলায় ৪৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আউশ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্ষা মৌসুমেও বৃষ্টির দেখা মিলছে না। প্রচণ্ড গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। আকাশে মেঘের আনাগোনা দেখা গেলেও বৃষ্টি হচ্ছে না। মাঝে মধ্যে কিছু বৃষ্টি হলেও তা ধানের চারা রোপণ করা যাচ্ছে না। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, আউশ চাষের জন্য ভারী বৃষ্টিপাতের দরকার। চারা রোপণের জন্য জমি উপযোগী করতে যে পরিমাণ বৃষ্টির প্রয়োজন তা হচ্ছে না। বৃষ্টি হলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আউশ রোপণ শেষ করতে পারবেন বলে তারা আশা করছেন।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ বলেন, আমার উপজেলায় এবার আট হাজার হেক্টর জমিতে আউশ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু ইতিমধ্যে চার হাজার হেক্টরের মতো চারা রোপণ হয়েছে। তাদের পানি সংগ্রহ করতে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকরা জমি তৈরি করতে পারছে না। আবার বৃষ্টি না হওয়ায় যারা রোপণ করেছে সেসব জমি ফেটে যাচ্ছে। কৃষকরা বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করছে।’
সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, বৃষ্টি না হওয়ায় আউশ চাষ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কৃষক পাহাড়ি ছরা ও নলকূপের পানি দিয়ে ধানের চারা রোপণ করছে। পানির অভাবে জমি তৈরি করা যাচ্ছে না। এবার এক হাজার ১৫৫ হেক্টর জমি আউশ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ায় আউশ চাষ পিছিয়ে যাচ্ছে।’ বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, আমার উপজেলায় ১৮০ হেক্টর বীজতলা তৈরি হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকরা চারা রোপণ করতে পারছে না। চার হাজার হেক্টর জমি টার্গেট করা হয়েছে।’
জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ গিয়াস উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে উপযোগী বৃষ্টি না হলে আউশ উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যাবে না। সময় মতো চাষাবাদ করা না গেলে ফলন ভালো হয় না। জুন মাসের মধ্যে আউশ চাষ হলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এই পর্যন্ত ৫৫ শতাংশ আউশ চাষ হয়েছে। তবে চট্টগ্রামে কিছুটা দেরিতে চাষাবাদ হয়ে থাকে।’
