বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

এবার ৪ ইসরায়েলিকে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৩:২৩

এবার উগ্রপন্থি চার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালানোর জেরে এই নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাজ্য।  খবর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির।

এর আগে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার দায়ে চলতি মাসেই ইসরায়েলের চার নাগরিকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার অভিযোগে যুক্তরাজ্য চার ‘চরমপন্থি’ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সোমবার ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী ওই চারজনের বিরুদ্ধে আর্থিক ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয় ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর। এছাড়া ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড ক্যামেরনও ইসরায়েলকে সহিংসতা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মূলত গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি বাহিনী ও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় হামাসের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের মধ্যে দাঙ্গা-সহিংসতা ব্যাপক হারে বেড়েছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, বসতি এবং অননুমোদিত ফাঁড়ির কিছু বাসিন্দা ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের ওপর তাদের জমি ছেড়ে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে হয়রানি, ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি সহিংসতাকে ব্যবহার করেছে।

বসতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা পিস নাউ-এর তথ্য অনুসারে, পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরের ১৬০টি বসতি এবং ১৪৪টি ফাঁড়িতে প্রায় ৭ লাখ ইহুদি বাস করে। ১৯৬৭ সালে ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করার পরে নানা সময়ে ক্ষমতায় আসা ইসরায়েলি সরকারগুলো এসব বসতি তৈরি করে। আর ছোট ফাঁড়িগুলো সরকারি কোনও অনুমোদন ছাড়াই নির্মিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বেশিরভাগই ইহুদি এসব জনবসতি এবং ফাঁড়িগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ বলে বিবেচনা করে। যদিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই ধরনের অবস্থান মানতে নারাজ ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র।

বসতি স্থাপনকারীরা ইসরায়েলের রাজনীতিতে বেশ শক্তিশালী একটি পক্ষ এবং প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারের কাছে তাদের সমর্থনও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পশ্চিমা শক্তিধর দেশগুলো আশঙ্কা করছে, তারা এই সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সর্বশেষ ব্রিটিশ এই নিষেধাজ্ঞোগুলো কার্যত একটি সতর্কতা হিসাবে মনে করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড ক্যামেরন বলেছেন: ‘চরমপন্থি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের হুমকি দিচ্ছে এবং প্রায়শই বন্দুকের মুখে তাদের জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য করছে। এই আচরণ বেআইনি এবং অগ্রহণযোগ্য।’

ইত্তেফাক/এনএন