বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

১৪৪ ধারা জারি

ভারতে কৃষক আন্দোলন চরমে, বাধা দিতে পুলিশের কাঁদানে গ্যাস

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫:৫২

ফসলের জন্য ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের (এমএসপি) নিশ্চয়তা দেওয়ার আইন, কৃষকদের জন্য পেনশন, শস্যবিমা ও তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর বাতিলের দাবিতে আজ ১৩ ফেব্রুয়ারি ‘দিল্লি চলো’ ডাক দিয়েছিলেন উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকেরা। পুলিশ হাজার হাজার বিক্ষোভকারী কৃষকদের মিছিলে বাধা দিতে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। বিক্ষোভ এড়াতে রাজধানীকে ক্ষুরের তার, সিমেন্টের ব্লক এবং তিন দিকে বেড়া দিয়ে ঘেরা হয়েছে। খবর বিবিসি।

কৃষকদের আজকের কর্মসূচির বেশ আগেই দিল্লিতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে দিল্লি প্রশাসন। আগামী ১২ মার্চ পর্যন্ত এই ১৪৪ ধারা জারি থাকবে ভারতের রাজধানীতে; অর্থাৎ এ সময়ে জমায়েত করা যাবে না।

রাজধানী থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার (১২৫ মাইল) উত্তরে আম্বালা শহরের কাছে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাসের ঘন মেঘ ব্যবহার করা হয়েছে। গতকালও পুলিশ হরিয়ানা ও পাঞ্জাব রাজ্যের মধ্যে শম্ভু সীমান্তে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।

সরকার ২০২০ সালের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছে।  শুধু পাঞ্জাব থেকেই ১৫০০টি ট্র্যাক্টর, ৫০০ গাড়ি নিয়ে দিল্লি অভিযানে আসছেন কৃষকরা। গাড়িতে করে প্রায় ছয় মাসের খাবার নিয়ে আসছেন তারা।

বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিল করতে প্রায় ১৩ মাসব্যাপী প্রতিবাদে কয়েক ডজন কৃষক মারা গেছে ২০২০ সালে। কিন্তু চার বছর পেরিয়ে গেলেও সেসব প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

পাঞ্জাবের গুরদাসপুরের কৃষক হরভজন সিংহ বলেন, 'সুচ থেকে হাতুড়ি, সব কিছু ট্রলিতে করে নিয়ে যাচ্ছি আমরা। ব্যারিকেড ভাঙার যন্ত্রও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা ছয় মাসের খাবার নিয়ে রওনা দিয়েছি। আমাদের সঙ্গে প্রচুর জ্বালানিও রয়েছে।'

আরেক কৃষক জানিয়েছেন, এর আগের আন্দোলন ১৩ মাস ধরে চলেছিল। কৃষকদের দাবি মেটানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি তারা রাখেনি। তার কথায়, 'এ বার যত দিন পর্যন্ত আমাদের দাবি দাওয়া মেনে না নেওয়া হবে, তত দিন আন্দোলন থেকে পিছু হটব না।'

কৃষকদের এই ‘দিল্লি চলো’ অভিযান রোখার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রচেষ্টা চালিয়েছে মোদি সরকার। দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কৃষক নেতাদের সঙ্গে দেখা করে বৈঠক করেন। কিন্তু সেই বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি।

সোমবার রাত ১১টার পর বৈঠকে বসে ২০২০ সালের ইলেক্ট্রিসিটি আইন বাতিল করার বিষয়ে কৃষক নেতাদের আশ্বস্ত করেন দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরির ঘটনায় কৃষকদের বিরুদ্ধে রুজু হওয়া মামলা প্রত্যাহার করা হবে বলেও জানানো হয়। 

বৈঠকের পর বৈঠকে যোগ দেওয়া কৃষকদের এক প্রতিনিধির অভিযোগ, দু’বছর আগে কৃষকদের অর্ধেক দাবি মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কেন্দ্র কিছুই করেনি। কৃষকেরা শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করলেও সরকার সময় নষ্ট করেছে।

আন্দোলন দমন করতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য সরকার দমন-পীড়নমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। হরিয়ানা সরকার দুটি বড় স্টেডিয়ামে অস্থায়ী কারাগার তৈরি করেছে। কৃষকেরা মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাঁদের আটক করে সেখানে রাখা হবে। এ ছাড়া সাধারণ মানুষ যেন এই আন্দোলনের কারণে অসুবিধার মুখে না পড়েন, সে দিকেও লক্ষ রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/এনএন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন