ভারতে কৃষক বিক্ষোভ রণক্ষেত্র হরিয়ানা

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০০:০৬

কৃষকদের দিল্লি চলো অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে ভারতের হরিয়ানা। পশ্চিমবঙ্গে পালন করা হয় শ্রমিক সংগঠনের ডাকা ধর্মঘট। একদিকে বামপন্থিদের ডাকা দেশব্যাপী ধর্মঘট, অন্যদিকে কৃষকদের ‘দিল্লি চলো’ অভিযান। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দফায় দফায় খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়েছে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের। খবর ডয়চেভেলের

পার্লামেন্টে শেষ অধিবেশনে বিতর্কিত কৃষিবিল পাশ করেছিল বিজেপিশাসিত কেন্দ্রীয় সরকার। বিরোধীদের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও বিলটি কণ্ঠভোটে পাশ করানো হয়েছিল। তারপর থেকেই ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৃষিভিত্তিক দুই রাজ্য পাঞ্জাব এবং হরিয়ানায় কৃষক বিক্ষোভ শুরু হয়। বিলটি পাশ হওয়ার পরেই পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার কৃষকদের একটি বড় অংশ আন্দোলন শুরু করে। শীতে কার্যত কোনো ফসলবোঝাই ট্রাক পাঞ্জাব থেকে বের হতে দিচ্ছেন না কৃষকরা। তাদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকার নতুন আইন বলবত্ করে কৃষকদের স্বার্থে আঘাত করেছে।

গত কয়েক মাস ধরেই আন্দোলন চলছিল। তারই মধ্যে সরকার কৃষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সেই বৈঠকে কোনো সমাধান সূত্র মেলেনি। তার পরেই কৃষকদের প্রায় ৫০০টি গোষ্ঠী একত্রে সিদ্ধান্ত নেয়, বৃহস্পতিবার দিল্লি অভিযান করা হবে। পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার কৃষকরা সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় যোগ দেন এ আন্দোলনে। গতকাল সকাল থেকে একের পর এক ট্রাক্টরের মিছিল হরিয়ানা সীমানার দিকে আসতে থাকে। সঙ্গে পদযাত্রা। হরিয়ানা বিজেপিশাসিত রাজ্য। দিল্লি অভিযান করতে হলে পাঞ্জাবের কৃষকদের হরিয়ানার ওপর দিয়েই আসতে হবে। সরকারের নির্দেশে হরিয়ানা পুলিশ পাঞ্জাব সীমানায় বিশাল ব্যারিকেড তৈরি করে। কৃষকরা সেই ব্যারিকেডের সামনে পৌঁছলে শুরু হয় খণ্ডযুদ্ধ। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড তুলে নদীতে ফেলে দিতে শুরু করেন। পালটা লাঠিচার্জ করে পুলিশ। চালানো হয় কাঁদানে গ্যাস। তাতেও কাজ না হলে প্রবল শীতের মধ্যে জলকামান ব্যবহার করা হয়। ঘটনায় বেশ কিছু কৃষক আহত হয়েছেন। অন্যদিকে বাম এবং কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনগুলো গতকালই দেশ জুড়ে অবস্থান ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষিবিল এবং শ্রমনীতির বিরুদ্ধে এ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।