সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

৩৪ বছরে দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উচ্চ শিক্ষালয় 

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৭:০০

৩৩ বছর আগে এই দিনে দেশের জন্য ছিল একটি অন্যতম অর্জন। দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উচ্চ শিক্ষালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল এ দিনে। সেই থেকে গৌরব-ঐতিহ্যকে সমন্নুত রেখে ৩৪ বছরে পদার্পণ করল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষা, গবেষণা আর উদ্ভাবনে রয়েছে সাফল্য-সংকট ও সম্ভাবনা।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জানা যায়, ১৯৯১ সালের পহেলা ফাল্গুনে ৩টি বিভাগ ও ২০৫ জন শিক্ষার্থী ও ১৩ জন শিক্ষক নিয়ে যাত্রা শুরু করে শাবিপ্রবি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭টি অনুষদের অধীনে ২৮টি বিভাগ ও ২টি ইন্সটিটিউট মিলিয়ে ১০হাজারের ও অধিক  শিক্ষার্থী  অধ্যয়ন করছেন। এই দীর্ঘ পথচলায় বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিভা বিকাশের মাধ্যমে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেই চলেছেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে যার সুনাম এখন বিশ্বব্যাপী। উদ্ভাবন ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড পুরষ্কার-১৭’ ২০১৮ সালে ‘নাসা স্পেস চ্যালেঞ্জ অ্যাপস’ অংশ নিয়ে বেস্ট ডাটা ইউটিলাইজেশন ক্যাটাগরিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, প্রযুক্তি খাতে অবদানের জন্য ‘ডিজিটাল ক্যাম্পাস অ্যাওয়ার্ড'-২০ অর্জন রয়েছে এই উচ্চ শিক্ষায়তনের। অনেক কিছুর প্রথম এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জনের ঝুলি আরও ভরপুর। 

এসএমএসে প্রথম ভর্তি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি, ডোপ টেস্টে ভর্তি কার্যক্রম, সেমিস্টার পদ্ধতি চালু, ক্যাম্পাসে অপটিক ফাইবার নেটওয়ার্ক, নিজস্ব ডোমেইনে ই-মেইল, যানবাহন ট্র্যাকিং ডিভাইস এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের ‘মঙ্গল দ্বীপ’ সফটওয়্যার উদ্ভাবন, চালকবিহীন ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন একুশে বাংলা কীবোর্ড, বাংলা সার্চ ইঞ্জিন পিপিলিকা, কথা বলা রোবট 'রিবো', হাঁটতে সক্ষম রোবট ‘লি’, ক্যান্সার নির্ণয়ের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন, ব্লক চেইন পদ্ধতিতে সার্টিফিকেট যাচাই, বিদুৎ বিহীন চার্জিং যান চালু ইত্যাদি। এছাড়া দাপ্তরিক কাজের ৮০ শতাংশই হচ্ছে ডিজিটাল নথিতে। 

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকরা বিশ্বের স্বনামধন্য জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান গুগল, ফেইসবুক, অ্যামাজন, মাইক্রোসফটের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ও সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্বে নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী প্রান্ত দাস বলেন, ছোট থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি অনেক আগ্রহী ছিলাম। বিভিন্ন সংবাদপত্রে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভালো করছে যেনে আগ্রহ জন্মায় যে, আমাকে সেখানে পড়তে হবে। 

সেই অনুযায়ী পড়াশোনা করে চান্স পাওয়াটাও ছিল আমার জন্য স্বপ্নের মত। আশা করি নিজেকে এখান সমৃদ্ধ করতে পারব। একইসঙ্গে উদ্ভাবন ও গবেষণায় বিশ্বের মধ্যে রোল মডেল হবে বলে প্রত্যাশা করেন এ শিক্ষার্থী। সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে। সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড এখন দৃশ্যমান। গবেষণার বাজেট ১০ গুণ বৃদ্ধি করে সাড়ে ৮ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এই বছর বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতিসম্পন্ন জার্নালে ৪ শতাধিক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।  

ইত্তেফাক/এআই