বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

ক্লাস করানোকে কেন্দ্র করে সহকর্মীকে চেয়ার দিয়ে পেটালেন শিক্ষক

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৭:৩৪

মাদারীপুরের রাজৈরে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকে কেন্দ্র করে গৌতম চন্দ্র দাস নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকর্মীকে চেয়ার দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে বরখাস্ত ও বিভাগীয় তদন্তের আদেশ দিয়েছেন।

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার খালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিনয় কৃষ্ণ বাড়ৈ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ১০টার দিকে স্কুলে আসেন সহকারী শিক্ষক গৌতম চন্দ্র দাস। স্কুলে এসেই তিনি বাসায় চলে যান। পরে ১১টার দিকে আবার স্কুলে আসেন। তার (গৌতম দাস) ক্লাসটি নেওয়া হয়নি কেন?  এ নিয়ে সহকর্মী শিক্ষক ফুল মালার সঙ্গে তর্কবিতর্ক হয়। এ সময় তিনি কেন বাসায় চলে গেলেন জানতে চাওয়ায় শিক্ষিকা ফুলমালার ওপর গৌতম দাস আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে গৌতম চন্দ্র দাস চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে ফুলমালাকে আহত করেন। পরে তিনি রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

প্রধান শিক্ষক বিনয় বাড়ৈ বিষয়টি উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপা বিশ্বাসকে জানালে তিনি ঐ বিদ্যালয়ে আসেন। এ সময় শিক্ষা কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা পেয়ে গৌতম চন্দ্র দাসকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বরখাস্ত ও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন।

মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষক গৌতম চন্দ্র দাস বলেন, ফুলমালা আমাকে আগে তার দিয়ে আঘাত করে পরে আমি তাকে মারধর করি।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকা ফুলমালা বলেন, আমাকে গৌতম চন্দ্র দাস চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। আমি এর বিচার চাই।

প্রধান শিক্ষক বিনয় বাড়ৈ বলেন, ঘটনাটি আমার সামনেই ঘটেছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে জানালে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।

রাজৈর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তপা বিশ্বাস বলেন, শিক্ষিকা ফুলমালাকে মারধরের ঘটনা শুনে ওই বিদ্যালয়ে যাই। ঘটনার সত্যতা পেয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে কথা বলে অভিযুক্ত শিক্ষক গৌতম চন্দ্র দাসকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বরখাস্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।  

ইত্তেফাক/এবি