দল নিয়ে গর্বিত রোডস

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৩৩

স্পোর্টস রিপোর্টার

বেচারা স্টিভ রোডস। বাংলাদেশের হেড কোচের দায়িত্বে ড্রেসিংরুমে বসার প্রথম ঘণ্টায় এক দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন। গত জুলাইয়ে অ্যান্টিগায় নতুন কোচ রোডস বিস্ময় চোখে দেখেছেন ক্যারিবিয়ান পেসারদের তোপে মুহূর্তেই চুরমার হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন। ৪৩ রানে অলআউট হওয়ার দুঃসহ স্মৃতি সঙ্গী হয়েছিল বাংলাদেশের। আর ওই দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের পরই নাকি বাংলাদেশ দল পরিকল্পনা করেছিল ঘরের মাঠে উইন্ডিজদের একই তিক্ত অভিজ্ঞতা ফিরিয়ে দেয়ার।

প্রায় চার মাসের ব্যবধানে মনের আশা, পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের পর মিরপুরেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তিন দিনে টেস্ট হারিয়েছে টাইগাররা। গতকাল দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ১৮৪ রানের জয়ে ২-০ তে সিরিজ নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা।

টেস্ট ক্রিকেটে দলের এমন পারফরম্যান্সে গর্বিত স্টিভ রোডস। তার মতে, এই সিরিজ জয় দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। তারপরও দেশের বাইরে বড়োসড়ো পরীক্ষাই দিতে হবে বাংলাদেশকে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফরে যাবে টাইগাররা।

অ্যান্টিগা-কিংস্টনের জবাবটা ভালোভাবেই দিতে পেরেছে বাংলাদেশ। গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে মধুর জয়ের পর সাংবাদিকদেরকে স্টিভ রোডস বলেছেন, ‘অ্যান্টিগার পর আমাদেরকে অনেক কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে, এবং আমি জানি- আবার এসিড টেস্ট হবে যখন আমরা দেশের বাইরে যাবো, এবং দেখা হবে আমরা কেমন করি দেশের বাইরে। কন্ডিশন যাই হোক, হোম বা বাইরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে একটা টেস্ট জয় বিশেষ প্রচেষ্টার ফল। আমি গর্বিত ছেলেদের জন্য। আপনি জানেন অ্যান্টিগায় আমরা খুব গভীর বেদনায় পুড়েছিলাম। তখনই বাংলাদেশে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে এমন কিছু করার আশা করেছিলাম আমরা।’

এই সিরিজে অভিষেক হয়েছে অফ স্পিনার নাঈম হাসান ও বাঁহাতি ওপেনার সাদমান ইসলাম অনিকের। চট্টগ্রামে বল হাতে ঘূর্ণি জাদুতে মাত করেছিলেন নাঈম। ঘরের মাঠে ৫ উইকেটের পর, দ্বিতীয় টেস্টে এক উইকেট নিয়েছেন তিনি। মিরপুরে অভিষেকেই সাদমান ৭৬ রান করেছিলেন। দুই তরুণের প্রশংসা করে বাংলাদেশের হেড কোচ বলেছেন, ‘এটা সবসময় এমন হয় যে, যখন আপনি জিতবেন লোকজন তারকাদের নিয়ে কথা বলে। কিন্তু আমাদের অভিষিক্ত সাদমান অসাধারণ দৃঢ়তা দেখিয়েছে। যা সে প্রস্তুতি ম্যাচেও করেছিল এবং আশা করি, অনেক কিছুর শুরু এটা। চট্টগ্রামে নাঈমের পাঁচ উইকেট ছিল দুর্দান্ত। এখানে হয়তো সে অনেক উইকেট পায়নি কিন্তু নিশ্চিতভাবেই দারুণ বোলিং করেছে। সে খুব ভালো ফিল্ডার ও ব্যাটসম্যান। তার ভবিষ্যত্ খুব ভালো।’

সংখ্যায়

১-

নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো দলকে ইনিংস ব্যবধানে হারালো বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে টেস্টে এটা বাংলাদেশের ১৩তম জয়। আর এই নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো টেস্টে এক পঞ্জিকা বর্ষে তিনটি ম্যাচ জিতলো বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৪ সালে দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়েকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। এটা বাংলাদেশের চতুর্থ সিরিজ জয়। এর মধ্যে দুটো করে সিরিজই দলটি জিতেছে জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।

৩৯৭- প্রথম ইনিংসে নেওয়া ৩৯৭ রানের লিডটাই বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা। এরপ আগে এই একই ভেন্যুতেই গত মাসে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২১৮ রানের লিড নিয়েছিল। সেবার ফলোঅনে ফেলার সুযোগ পেয়েও বাংলাদেশ আবার ব্যাট করতে নামে। সেই অর্থে এবারই প্রথমবারের মতো প্রতিপক্ষকে ফলোঅনে ব্যাট করতে পাঠায় বাংলাদেশ।

৯-

 দ্বিতীয় ইনিংসে ৯২ বলে ৯৩ রানের ইনিংস খেলার পথে নয়টি ছক্কা হাকান শিমরন হেটমায়ার। এটা টেস্টের এক ইনিংসে যেকোনো ক্যারিবিয়ানের সর্বোচ্চ ছক্কা। এর আগে ক্রিস গেইলও গলে ২০১০ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তার বিখ্যাত ৩৩৩ রানের ইনিংস খেলার পথে নয়টি ছক্কা হাঁকান। শুধু তাই নয়, এটা বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে কোনো ব্যাটসম্যানের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ সংখ্যক ছক্কা। এর আগে শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩১৯ রানের ইনিংস খেলার পথে হাঁকান আটটি ছক্কা।

৬১-

সদ্য শেষ হওয়া দুই ম্যাচের এই টেস্ট সিরিজে ৬১টি উইকেটই নিয়েছেন স্পিনাররা। এর মধ্যে বাংলাদেশের স্পিনাররা পেয়েছেন ৪০টি। স্পিনারদের সর্বোচ্চ সংখ্যক উইকেট নেওয়ার ক্ষেত্রে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের মধ্যে এটা থাকছে দ্বিতীয় স্থানে। প্রথমটিতেও জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের নাম। ২০১৬-১৭ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দেশের মাটিতে দুই ম্যাচের সিরিজে স্পিনাররা নিয়েছিলেন ৬২টি উইকেট। এই নিয়ে অষ্টমবারের মতো দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ৫০-টির বেশি উইকেট পেল স্পিনাররা। এর মধ্যে ছয়টি হয়েছে গেল ২৪ মাসের মধ্যে, আর এর সবগুলোই উপমহাদেশে।

৪০-

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে দলীয়ভাবে স্পিনারদের সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নামটাই আছে সবার ওপরে। এই সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সবগুলো মানে ৪০টি উইকেটেরই পতন ঘটিয়েছেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। এটা টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসেরই অনন্য এক ঘটনা। এর আগে সর্বোচ্চ ছিল ৩৮টি। সেই কীর্তিটাও বাংলাদেশের। সেবার, মানে ২০১৬-১৭ মৌসুমের সেই সিরিজে দেশের মাটিতে প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড। এবার ৪০টির মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাইজুল ইসলাম ১০টি, অধিনায়ক সাকিব আল হাসান নয়টি ও অভিষিক্ত নাঈম হাসান ছয়টি উইকেট নেন।