মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

রাবিতে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধস: ৭ দিনেও জমা পড়েনি তদন্ত প্রতিবেদন

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২০:১১

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হলের নির্মাণাধীন অডিটরিয়াম ভবনের ছাদের একাংশ ধসে পড়ার ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়নি বলে। বিষয়টি তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামান সরকার নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত কমিটির সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, তারা কাজ করছেন। বেশ কিছু বিষয়ের পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়েছে। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন তাৎক্ষণিক পাওয়া যায় না, তাই প্রতিবেদন দিতে সময় লাগবে। আরও কয়েকদিন লাগতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান আবাসিক হল এবং ২০ তলাবিশিষ্ট বিজ্ঞানের একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ করছে রূপপুরের ‘বালিশ-কাণ্ডে’ আলোচিত-সমালোচিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’। নির্মাণাধীন ওই দুইভবনে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুইজন শ্রমিকের এবং ঠিকাদারের মালামালবাহী ট্রাক চাপায় হিমেল নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণকাজে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্মাণাধীন শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান আবাসিক হলের অডিটরিয়ামের ছাদের ওপরে তোলা পূর্বপাশের বিম এখনো ঝুলে আছে। এর পশ্চিম পাশে ৫৬ ফুটের দু’টি বিমের ফাঁকা রড নিচে ঝুঁলে আছে। ঐ দু’টি বিমে সিমেন্টের ঢালাই পর্যন্ত খুলে পড়েছে। এছাড়া বিমের নিচে কোনো কলামও ছিল না।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রমিকরা জানান, এ ধরনের কাঁচা বিমের ওপর ছাদ ঢালাই করেননি কখনো। তবে সাইট থেকে এভাবেই ছাদ ঢালাই করার নির্দেশনা ছিল। কী কারণে এমনভাবে কাজ করার নির্দেশনা, বিষয়টি হয়তো কখনো জানা যাবে না।

বিশেষজ্ঞরা জানান, সাধারণত বিম ঢালাই করার পর ১০-১৫ দিন গ্যাপ দিতে হয়। এ সময়ে বিমের ঢালাই শুকিয়ে শক্ত হয়। এই গ্যাপে বিমে নিয়মিত পানি দিতে হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ধসে যাওয়া ভবনে এসব কিছুই মানা হয়নি। ঘটনার দিন দুপুর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শেষ করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা কোনো কথা বলতে রাজি নন। তারা বলেন, গঠিত তদন্ত কমিটির কাজ চলমান। এ কারণে কিছুই বলা যাবে না। তবে বিম তৈরির পর একটা নির্দিষ্ট সময় দিতে হয়। এখানে যেটা হয়েছে, তা অস্বাভাবিক।

উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে মাদার বখশ হলের সামনের চত্ত¡রে নির্মাণাধীন শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান হলের নির্মাণাধীন অডিটরিয়াম ভবনের ছাদের একাংশ সাটারিংসহ ধসে পড়ে ৯ শ্রমিক আহত হন। ওই দিন রাতে অনুষ্ঠিত জরুরী সভায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়। তবে কমিটি গঠনের চারদিন পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কমিটির সদস্যদের চিঠি দেয় প্রশাসন। ঐ দিন থেকে সাত কার্যদিবস ১২ ফেব্রæয়ারি শেষ হয়েছে। 

ইত্তেফাক/এবি