পরিবেশবাদী সংগঠনের নাগরিক সমাবেশ
ইত্তেফাক রিপোর্ট
সৌন্দর্যমণ্ডিত প্রাকৃতিক পার্ক অর্ঘ্য সড়কদ্বীপের লিজ বাতিল করে স্থানটি কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদী একাধিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, এই সড়কদ্বীপ বিনষ্ট বা ধ্বংস করে অন্য কোনো স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে তারা এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণসামগ্রী ও জননিরাপত্তায় ঝুঁকিপূর্ণ সকল স্থাপনা অবিলম্বে অপসারণেরও দাবি জানান।
গতকাল মিরপুর রোড-গ্রিন সংযোগস্থলে ‘সৌন্দর্য বেষ্টিত সুদৃশ্য ‘অর্ঘ্য’ সড়কদ্বীপটি দখলদার মুক্ত করার’ দাবিতে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), গ্রিনভয়েস, ডাব্লিউবিবিট্রাস্ট, হেরিটেজ ক্রিয়েটিভ কাউন্সিল, ব্লু প্ল্যানেট ইনিশিয়েটিভ, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ-স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, প্রতিসৃষ্টি ও নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এই নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ঢাকা শহরকে একটি স্বস্তির শহরে পরিণত করতে হবে, এটাকে শুধু যানজটের শহরে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না। আমি মেয়রকে অনুরোধ করছি— তিনি যেন এই সুন্দর সবুজে ঘেরা দ্বীপটিকে কোনোভাবেই ধ্বংসের মুখে ঠেলে না দেন।
ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরী বলেন, বিআরবি কেবল উন্নয়নের শীর্ষে উঠুক, তবে পরিবেশকে ধ্বংস করে নয়। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, বিআরবি কেবল সরকারের ছত্রছায়ায় এটা ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন বলেন, দৃষ্টিনন্দন দ্বীপটি রক্ষার জন্য প্রয়োজনে আরো বৃহত্ আন্দোলনে যাব, কোনোভাবেই এ দ্বীপটিকে ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না।
প্রকৃতি ও নগর সৌন্দর্যবিদ রাফেয়া আবেদীন বলেন, সবুজে বেষ্টিত ‘অর্ঘ্য’টি ব্যাবসায়িক স্বার্থে গাড়ি পার্কিং ও অন্যান্য ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধার জন্য সৌন্দর্য বৃদ্ধির নামে সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে নেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ-এর সভাপতিত্বে নাগরিক সমাবেশ সঞ্চালনা করেন— বাপার জীবন সদস্য ও স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহম্মেদ কামরুজ্জামান মজুমদার। আরো বক্তব্য রাখেন— সাবেক সচিব গীতিকবি ভুঁইয়া শফিকুল ইসলাম, বাপার যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, প্রতিসৃষ্টির সভাপতি সংস্কৃতিজন শাহরিয়ার সালাম প্রমুখ।
