ইত্তেফাক রিপোর্ট
উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত থাকা মামলার বিচার কাজ পরিচালনা করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। তলব আদেশে ঢাকা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো. আল মামুনের হাজিরার পর অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্ট বলেন, অস্ত্র মামলাটির কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিতের আদেশ দেওয়া হয় ৩০ এপ্রিল। কিন্তু এরপরও মামলাটি সাক্ষীর জন্য রাখা হয়েছে। আমাদের আদেশকে অবজ্ঞা করা হয়েছে। এটা দুঃখজনক। আদালত বলেন, আপনারা বিচার বিভাগের অংশ। আপনাদের সুনাম মানে বিচার বিভাগের সুনাম, আর দুর্নাম মানে বিচার বিভাগের দুর্নাম। কিন্তু উচ্চ আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করা হয় না। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. রিয়াজউদ্দিন খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই মন্তব্য করেন।
নিম্ন আদালতের ওই বিচারকের পক্ষে অ্যাডভোকেট এএম আমিনউদ্দিন বলেন, নিম্ন আদালতের প্র্যাকটিস পেশকার আদেশ লিখে দেন, বিচারক শুধু স্বাক্ষর করেন। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, আপনি কি ব্যবস্থা নিয়েছেন? অ্যাডভোকেট আমিনউদ্দিন বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না। দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা পেশকারকে শোকজ করব। আর সময় পেলে বিষয়টি লিখিতভাবে আদালতকে জানানো হবে। এরপরই আদালত বিচারককে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়ে ১৭ জুলাই লিখিত জবাব দাখিলের নির্দেশ দেন।
এদিকে গতকাল আইনজীবী মো. আশরাফুল আলম নোবেল আসামি বৃদ্ধা রাবেয়া খাতুনের জাতীয় পরিচয়পত্র আদালতে পেশ করেন। সেখানে তার জন্ম তারিখ লেখা রয়েছে ১৯৩৩ সাল। সেই হিসাবে তার বর্তমান বয়স ৮৬ বছর। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারওয়ার কাজল উপস্থিত ছিলেন।
‘অশীতিপর রাবেয়া; আদালতের বারান্দায় আর কত ঘুরবেন তিনি’ শীর্ষক শিরোনামে গত ২৫ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে আবেদন করেন আইনজীবী মো. আশরাফুল আলম নোবেল। এতে বলা হয়, অবৈধ অস্ত্র ও গুলি নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধে তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুর রাজ্জাক বাদী হয়ে অশীতিপর রাবেয়া খাতুনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। ২০০২ সালের ২ জুন দায়েরকৃত এ মামলায় তিনি গ্রেফতার হয়ে ছয় মাস কারাভোগ করেন। পরে জামিনও পান। তাকেসহ দুই আসামি জুলহাস ও মাসুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ২০০৩ সালের ২৪ মার্চ শুরু হয় মামলার বিচার। কিন্তু দেড় যুগেও মামলার বিচার শেষ হয়নি।
