তরুণ-তরুণীদের সেনাবাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক করছে মিয়ানমার

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:০১

তরুণ বয়সী সব নারী-পুরুষকে বাধ্যতামূলক সেনাবাহিনীতে যোগদানের নিয়ম করেছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। আগামী এপ্রিল মাস থেকেই এটি শুরুর পরিকল্পনা করেছে তারা।  এমন আইন করার ফলে অনেক যুবক-যুবতী এরই মধ্যে দেশ ছেড়ে পালানোর কথা চিন্তা করছেন। অবসরপ্রাপ্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তাদেরও সেনাবাহিনীতে ফিরতে হবে বলে জান্তা মুখপাত্র জানিয়েছেন। খবর মিয়ামি হেরাল্ডের।

মিয়ানমারের বিভিন্ন স্থানে জান্তা বিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহীদের মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর হিমশিম খাওয়ার মধ্যে এমন ঘোষণা এল।

২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। অভ্যুত্থান রক্তপাতহীন ভাবে হলেও পরে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে মিয়ানমার জুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। জান্তা সরকার কঠোর হাতে ওই বিক্ষোভ দমন করে। বহু বিক্ষোভকারী প্রাণ হারান। গ্রেপ্তার হন আরো অনেকে।

সে সময় বড় বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভ দমন করা সম্ভব হলেও বিভিন্ন রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে আদিবাসী বিচ্ছিন্নতাবাদী নানা সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনীর লড়াই শুরু হয়।গত বছর শেষভাগে বিচ্ছিন্নতাবাদী কয়েকটি দল জোট গঠন করে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তুমুল আক্রমণ শুরু করে এবং গত কয়েক মাসে সেনাবাহিনীকে হারিয়ে তারা বেশ কিছু এলাকার দখল নিয়েছে।

কোণঠাসা হয়ে পড়া জান্তা সরকার গত শনিবারেই সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলকভাবে যোগদান সংক্রান্ত একটি আইন জারির ঘোষণা দেয়।

বলা হয়, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী সব পুরুষ এবং ১৮ থেকে ২৭ বছর বয়সী সব নারীকে অবশ্যই দুই বছর সেনাবাহিনীতে কাজ করতে হবে। আর মঙ্গলবার জান্তা সরকার জানাল, এই নিয়ম চালু হচ্ছে এপ্রিল থেকে। 
জান্তা মুখপাত্র জ মিন তুন বিবিসি বার্মিজ সার্ভিস কে বলেন, “এপ্রিলে নতুন বছরের ছুটির পর আমরা বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছি।”

মধ্য এপ্রিলে পালিত হবে মিয়ানমারের থিনগায়েন নতুন বছর। এই উৎসব পালনের পর পরই প্রথম ৫০০০ জনের ব্যাচকে ডাকা হবে। কিন্তু এই আইন সক্রিয় করা নিয়ে আতঙ্ক, উদ্বেগ এবং হতাশা দেখা দিয়েছে যুবক, যুবতী এবং তাদের অভিভাবকদের মধ্যে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় তারা এই হতাশার কথা প্রকাশ করছেন। অনেকে দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা বিবেচনা করছেন। জাতিগত সংখ্যালঘুরা যেসব এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে সীমান্ত অতিক্রম করে সেসব এলাকায় চলে যেতে চাইছেন কেউ কেউ। আবার প্রতিরোধ যুদ্ধে যোগ দিতে চাইছেন কেউ কেউ। কিন্তু এক্ষেত্রে কড়া শাস্তির বিধান রেখেছে সামরিক জান্তা। কেউ সেনাবাহিনীতে যোগ না দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তার শাস্তি তিন থেকে পাঁচ বছরের জেল এবং জরিমানা।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য জ মিন তুনকে ফোন করা হলে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে রাষ্ট্রীয় এমআরটিভি মেডিয়া তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর যেসব কর্মকর্তা গত পাঁচ বছরের মধ্যে অবসরে গেছেন,তাদেরকেও সেনাবাহিনীতে ফিরতে হবে।

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ বাধ্যতামূলক করে ‘জনগণের সামরিক সেবা আইন’ ২০১০ সালেই প্রবর্তন করা হয়েছিল। তবে এত দিন তা কার্যকর করা হয়নি।

ইত্তেফাক/এনএন