‘স্বামী নিখোঁজ দুই মাস। আমি সন্তানসম্ভবা। স্বামীর জন্য দুই মাস বিভিন্নজনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। স্পিকার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশ, র্যাব ও ডিবির কাছে গিয়েছি। সবাই শুধু বলে দেখছি। নয় বছরের ছেলেকে নিয়ে আমি কোথায় যাবো? আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দিন, আমার অনাগত সন্তান ও নয় বছরের সন্তানের বাবাকে ফিরিয়ে দিন।’ গতকাল বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তেজগাঁও থেকে অপহূত বেঙ্গল গ্লাস ওয়ার্কসের আইটি শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক আতাউর রহমান শাহীনের স্ত্রী তানিয়া আক্তার। এর আগে গত ২ মে রাত ৮টা ৫ মিনিটে শাহীনকে সাতরাস্তা মোড়ের কাছ থেকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় কয়েকজন।
সংবাদ সম্মেলনে তানিয়া আক্তার বলেন, তার স্বামী চার বছর ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) আইটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে খণ্ডকালীন চাকরি করতেন। স্বামীকে না পেয়ে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন। কেউই তার স্বামীর খোঁজ দিতে পারেননি। এ বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যারা তাকে তুলে নিয়ে গেছে তাদের চেহারা সিসিটিভির ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে, তারপরও কেন তাদের ধরা সম্ভব হচ্ছে না? আমি তাকে ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে শাহীনের বাবা আব্দুল আউয়াল মণ্ডল বলেন, ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর আমি র্যাব ও ডিবির কাছে যাই। প্রথমে তারা তত্পর ছিল, পরে থেমে গেছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা মনে করছি সরকারি কোনো সংস্থা এর সাথে সংশ্লিষ্ট থাকতে পারে। বাবাকে ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলনে আতাউরের ছেলে তাসদিদ আন নাফি বলে, ‘বাবা সেদিন দুপুরে আমাকে ফোন দিয়েছিল। বলেছে সন্ধ্যায় ফিরবে। আর ফেরেনি।’
