দর্শকপ্রিয় সিনেমার চুম্বক অংশ রিমেক করে জনপ্রিয় হয়েছেন এই তরুণ

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:৩৫

কাজের প্রতি ভালোবাসা, সুন্দর পরিকল্পনা ও একাগ্রতা থাকলে সবকিছু সম্ভব, এমন ধারণা থেকেই বড় বাজেটের সিনেমার চুম্বক অংশের রিমেক জিরো বাজেটে নির্মাণ করে সাড়া জাগিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শেখ জিসান আহমেদ।

পারিবারের কেউ সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সম্পৃক্ত না থাকায় এই কাজে পরিবারের সহযোগিতা মেলেনি তার। রিকশাভাড়া বাঁচিয়ে থিয়েটারে সময় দিয়েছেন। সেখানেও করতে হয়েছে ত্যাগ শিকার। থিয়েটার থেকে বাসায় ফিরে তালাবদ্ধ দরজার মুখে পড়তে হয়েছে প্রায়ই।

করোনাকালে অন্যদের মতো ঘরবন্দী জীবনে অনলাইনের কল্যাণে চঞ্চল চৌধুরী আয়নাবাজি সিনেমার একটা ক্লিপ জিসানের মনে ধরে বেশ। জিসান ভাবেন, 'ইস আমি যদি এমন একটা চরিত্রে এভাবে অভিনয় করতে পারতাম!' এই ভাবনা থেকে প্রথম আয়নাবাজি সিনেমার ওই ক্লিপটির রিমেক করেন। এটা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোডের পর তা বন্ধুমহল এবং পরিচিত মহলের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগায়। কাজটি রাতারাতি চঞ্চল চৌধুরীর কাছেও পৌঁছে যায় এবং তিনিও এর প্রশংসা করেন।

সিনেমার চুম্বক অংশের রিমেক তৈরির বিষয় কিভাবে নির্ধারণ করা হয়, জানতে চাইলে জিসান জানান, 'নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলোতে কাজ করার আগে অনলাইনে ভোটিং এর আয়োজন করি। জানতে চাই দর্শক কি কাজ দেখতে চায়। তারা যে সিনেমার নাম সবচেয়ে বেশি বলে এবং বেশি ভোট করে, সেটিই বাছাই করি।'

জিসানের তৈরি রিমেক ক্লিপগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলা সিনেমা মনপুরা, আয়নাবাজি, হলিউডের জোকার, তামিলের ৯৬, বলিউডের থ্রি ইডিয়টস, পিকে, ছিছোড়ে ইত্যাদির অংশবিশেষ। তবে এখনো মৌলিক কাজ করা হয়নি তার। মৌলিক গল্প নির্বাচনের চেষ্টা করছেন।

রিমেক সিনেমা তৈরির জন্য টাকার পাশাপাশি লোকবল এবং স্থানের সাদৃশ্য দরকার হয় সেগুলোর যোগান সম্পর্কে জানতে চাইলে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) উল্লেখ করে বলেন, 'এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই আমাকে খুব সাপোর্ট করে। প্রতিটি বন্ধু, সিনিয়র, জুনিয়র সবাই পাশে থাকে। ফলে সব ধরনের কঠিন কাজই আমার জন্য সহজ হয়ে যায়।  জাহাঙ্গীরনগরের বাইরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল উনিভার্সিটিতে পড়ুয়া আমার ছোটবেলার বন্ধু তানভীর হাসনাত এবং তার কয়েকজন আমার প্রতিটি কাজে সাহায্য করে। প্রায় সবগুলো সিনেমার শুটিং-ই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এবং এর আশেপাশে করা হয়েছে। প্রথম দিকে নিজের হাতখরচ ও বন্ধুদের নিঃস্বার্থ আর্থিক সাপোর্ট ছিলো। এখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও স্পন্সর হিসেবে এগিয়ে আসছে। ভবিষ্যতে নিজেকে অভিনেতা হিসেবেই দেখতে চান জিসান।

 

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন