বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

কামরাঙ্গীরচরে ৫০ তলা কনভেনশন সেন্টার করবে ডিএসসিসি

বাণিজ্যিক পরিকল্পনার জন্য নতুন ভবন অনুমোদন দিচ্ছে না রাজউক

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:১৬

কামরাঙ্গীরচরে ৫০ তলা কনভেনশন সেন্টার ও ১৪০ ফুট সড়ক নির্মাণসহ বাণিজ্যিক অঞ্চল সিবিডি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ইতিমধ্যে এটি তৈরি করার জন্য মাস্টারপ্ল্যানের কাজ চলছে। জমি অধিগ্রহণ বা নির্মাণকাজে যাতে কোনো ধরনের জটিলতা না দেখা দেয়, এজন্য এই এলাকায় সব ধরনের নতুন ভবন নির্মাণ অনুমোদন বন্ধ রেখেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক। তবে এই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন দীর্ঘমেয়াদি হবে কি না—এ নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এছাড়া এই এলাকায় যারা নতুন ভবন নির্মাণ করবেন, তারাও পড়েছেন বিড়ম্বনায়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তিনটি ওয়ার্ড ৫৫, ৫৬ ও ৫৭  নিয়ে কামরাঙ্গীরচর থানা। কামরাঙ্গীরচরের তিনটি ওয়ার্ডে জমির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫০০ একর। সেখানে প্রায় ২২ হাজার ভবন গড়ে উঠেছে। বসবাস প্রায় ১৫ লাখ মানুষের। মিশ্র ভূমি ব্যবহারের ঐ এলাকায় শত শত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে উঠেছে। সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ডিএসসিসি সেখানে ৫০ তলাবিশিষ্ট কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ করবে। ইতিমধ্যে ঐ কনভেনশন সেন্টারের নাম ঠিক করা হয়েছে শেখ হাসিনা কনভেনশন সেন্টার। পাশাপাশি ১৪০ ফুট প্রশস্ত সড়ক তৈরি হবে; ঐ সড়কের নাম দেওয়া হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কামরুল ইসলাম সরণি। আর আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের ওপর বহু লেনবিশিষ্ট একটি সেতু নির্মিত হবে। ঐ সেতুর নাম ঠিক করা হয়েছে মেয়র তাপস সেতু। ডিএসসিসি ঐ এলাকায় তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কী কী করবে, সবকিছু নির্ধারণ করেছে।

ডিএসসিসি ও রাজউক সূত্রে জানা যায়, সেপ্টেম্বরে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান রাজউক চেয়ারম্যানকে একটি চিঠি দেন। সেখানে জানান, কামরাঙ্গীরচর থানার আওতাধীন সিটি করপোরেশনের ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে পরিকল্পিতভাবে কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক অঞ্চল (সিবিডি) তৈরির পরিকল্পনা করছে ডিএসসিসি। ঐ এলাকায় সিবিডি গড়ে তোলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ভবনের নির্মাণ অনুমোদন বন্ধ না রাখলে সিবিডি বাস্তবায়নে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এর আগে একই বিষয়ে অবহিত করে ২০২১ সালের অক্টোবরে ডিএসসিসি রাজউক চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে একই বিষয়ে অবহিত করেছিল। দুটি চিঠি দিয়ে একই অনুরোধ করায় গত মাসে রাজউকের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কামরাঙ্গীরচরে নতুন করে আর কোনো ভবন নির্মাণ অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন হওয়ায় ঐ এলাকায় ডিএসসিসির সিবিডি বাস্তবায়ন করতে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। বিষয়টি ঐ এলাকার বাসিন্দারা জানতে পারায় তাদের মধ্যে আতঙ্ক ও হতাশা বিরাজ করছে। তবে সিটি করপোরেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিবিডির উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঐ এলাকার মানুষও লাভবান হবে। কারো জমি অধিগ্রহণ করা হলে তাদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করা হবে।

এ বিষয়ে রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, রাজউক কামরাঙ্গীরচরে নতুন করে আর কোনো ভবনের অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেউ রাজউকে আবেদন করলে তাদের সিটি করপোরেশনের অনুমোদন নিতে বলা হবে। অর্থাৎ, ঐ এলাকার ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, কামরাঙ্গীরচরে সিবিডি করতে হলে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে। এখন সেখানে কেউ ভবন নির্মাণ করলে তারা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আবার অধিগ্রহণ ব্যয়ও বাড়বে। এজন্য রাজউককে বারবার অনুরোধ করে নির্মাণ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। কামরাঙ্গীরচরে সিটি করপোরেশন মতিঝিলের আদলে কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক অঞ্চল গড়ে তুলতে চায়। সেখানে ৫০ তলাবিশিষ্ট কনভেনশন সেন্টার, ১৪০ ফুট সড়ক ও পরিকল্পিতভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম গড়ে তোলা হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা করছি। মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে।

ইত্তেফাক/এসটিএম