ভাঙ্গার প্রত্যন্ত এলাকায় হচ্ছে বঙ্গবন্ধু মানমন্দির ও পর্যটনকেন্দ্র

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৯, ২২:৩৫

কর্কট ক্রান্তি এবং ৯০ ডিগ্রি দ্রাঘিমার ছেদবিন্দু ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে স্থাপিত হতে যাছে অনন্য ভৌগোলিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বঙ্গবন্ধু মানমন্দির ও পর্যটন কেন্দ্র। এনিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে বিরাজ করছে ব্যাপক উত্সাহ- উদ্দীপনা।

সম্প্রতি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেখানে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানমন্দির’ স্থাপন করার জন্য একটা প্রকল্প প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুকতাদিরুল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চার বছর আগে ভাঙ্গা উপজেলার নূরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের ভাঙ্গারদিয়া         গ্রামের বিল ধোপাডাঙ্গা মৌজার এক টুকরো আবাদি কৃষি জমির ওপর বিশ্বের অন্যতম ভৌগোলিক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট কর্কট ক্রান্তি এবং ৯০ ডিগ্রি দ্রাঘিমার ছেদ বিন্দুটি ঘিরে সরকারি পর্যায়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়। ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়ক ধরে ভাঙ্গা উপজেলার পুখুরিয়া নামক স্থান থেকে সদরপুর সড়কের দিকে যেতে স্থানীয় বাইশরশী শিবসুন্দর একাডেমি সংলগ্ন নুরুল্লাগঞ্জমুখী রাস্তা ধরে ৩ কিলোমিটার এগোলে ভাঙ্গারদিয়া গ্রাম। সেখানে বিল ধোপডাঙ্গা মৌজায় বারেক মাতুব্বর, ইকবাল মাতুব্বর, কুটি পাগলা, জাকির হোসেন, ইউসুফ মাতুব্বর, আজিজুল মাতুব্বর, শাহজাহান শেখ ও মোফাজ্জেল হোসেনের মোট প্রায় ৫ একর কৃষি জমিকে প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য এ প্রকল্পের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে গত শুক্রবার সায়েন্স ফিকশন লেখক অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের ‘একটি স্বপ্ন’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ লেখেন। সেখানে তিনি বলেন, পৃথিবীর চারটি উত্তর-দক্ষিণ রেখা এবং তিনটি পূর্ব-পশ্চিম রেখা, সব মিলিয়ে বারো জায়গায় ছেদ করেছে। এর দশটি বিন্দুই পড়েছে সাগরে-মহাসাগরে। শুধু একটি বিন্দু পড়েছে শুকনো মাটিতে, যেখানে মানুষ যেতে পারে। সেই বিন্দুটি পড়েছে বাংলাদেশে।’

জমির একজন মালিক বান্দরবানে চাকরিরত বিজিবি সদস্য মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, দেশের জন্য আমরা জীবন বাজি রেখে কাজ করি, আর সামান্য জমি দেওয়াতো নগণ্য ব্যাপার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুকতাদিরুল আহমেদ বলেন, ইতিমধ্যে একাধিকবার ভাঙ্গারদিয়া গ্রামের বিল ধোপাডাঙ্গা মৌজার এ জমি এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি আমরা। আন্তর্জাতিক মানের এ মান মন্দির ও পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ করতে ১৫ থেকে ২০ একর জায়গার প্রয়োজন হবে। আমাদের সার্ভের কাজ শেষ পর্যায়ে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে খুব শিগগিরই আমরা এ প্রকল্পের একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠাব।