মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

যশোরের এসপি-এএসপির অপসারণের দাবিতে আন্দোলন

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:০২

যশোরের পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ার্দ্দার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হুসাইনের অপসারণের দাবিতে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন জেলার বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিরা। বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) যশোর পৌরসভা হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন তারা।

প্রথমে সংবাদ সম্মেলন যশোর প্রেসক্লাবে হওয়ার কথা থাকলেও পুলিশের বাধার মুখে তা পরে পৌরসভার হলরুমে করা হয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে একই দাবিতে শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) মানববন্ধন, ১৭ ফেব্রুয়ারি বিক্ষোভ মিছিল, ১৮ ফেব্রুয়ারি দড়াটানায় বিক্ষোভ সমাবেশ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এরপরও তাদের অপসারণ করা না হলে হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যশোর পৌরসভার ১ নম্বর প্যানেল মেয়র শেখ মোকছিমুল বারী অপু। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল, হৈতবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সিদ্দিক, চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দাউদ হোসেন দফাদার, লেবুতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলীমুজ্জামান মিলন, উপশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসানুর রহমান লিটু, হৈবতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ সোহরাব হোসেন, রামনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান লাইফ, নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ, যশোর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাহিদুর রহমান রিপন, ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাজিবুল আলম, ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাহেদ হোসেন নয়ন ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বাবুল।

এছাড়া জনপ্রতিনিধিদের কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আফজাল হোসেন ও জেলা শ্রমিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জেলা পরিষদ সদস্য জবেদ আলী প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত নাগরিক সেবা আমরা জনপ্রতিনিধিরা তৃণমূলের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করি। ডিজিটাল থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরাই তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করছি। কিন্তু যশোরের পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ার্দ্দার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হুসাইন আমাদের জনপ্রতিনিধিদের নানাভাবে হয়রানির মাধ্যমে সম্মানহানি করছেন। তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিবর্তে জনপ্রতিনিধিদের জনসম্মুখে সম্মানহানি করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গত কয়েকদিন ধরে যশোর পৌরসভার কাউন্সিলর শেখ জাহিদ হোসেন মিলন, রাজিবুল আলম, শাহেদ হোসেন নয়ন, সাহিদুর রহমান রিপনসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধির অফিস ভাঙচুর করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে সুনির্দিষ্ট কোনও মামলা না থাকলেও কাউন্সিলর মিলনকে আটক করে অমানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। কোনো কিছু ঘটলেই এসব জনপ্রিয় কাউন্সিলরের অফিস ও বাসভবনে হামলা করে পুলিশ। তাদের এই অপতৎপরতার মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে যারা অপরাধী, সন্ত্রাসী তাদের আড়াল করা হচ্ছে। বেশ আগে থেকেই যশোরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতি হয়েছে। চুরি, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি বেড়েছে। খুনের মতো ঘটনা ঘটছে অহরহ। আমরা বরাবর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকের পক্ষে। এসব ঘটনার অধিকাংশ সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। কিন্তু সেই ফুটেজ অনুযায়ী আসামিদের আটক না করে অন্যদের হয়রানি করা হচ্ছে। এর আগে যুবলীগের বর্ধিত সভার দিন সন্ত্রাসীদের সংঘর্ষ, কাউন্সিলর সাহেদ হোসেন নয়নের ওপর হামলাসহ অনেক ঘটনা রয়েছে, যার কোনও মামলা নেওয়া হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন থানায় গেলে ‘এসপির নির্দেশ আছে মামলা নেওয়া যাবে না’ বলে তাদের থানা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালে সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুলের বাসভবনে বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা ব্যক্তি বোমা ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের কাছে সেই সিসিটিভি ফুটেজ সরবরাহ করা হয়েছিল। কিন্তু আসামি আটক না করে সেই মামলায় ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের অপসারণ দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তারা যশোরে থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার সুযোগ নেই। তারা রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। এজন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে যশোরের মানুষের জান ও মালের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের অপসারণ দাবি করছি। এই দাবিতে আজ থেকে আমরা জনপ্রতিনিধিরা কর্মবিরতি পালন শুরু করেছি। তাদের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। গত ৬ নভেম্বর পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ার্দ্দারের পদোন্নতি হলেও তিনি অন্যত্র যোগদান না করা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

ইত্তেফাক/কেকে