বর্ষায় তিন পার্বত্য এলাকাসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে তিন পার্বত্য জেলা। ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোয় এ রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। চিকিত্সকরা জানান, এবার ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে কোনো রোগী মারা যাওয়ার ঘটনা বিরল হলেও আক্রান্তের হার কমছে না। প্রতিদিন আক্রান্ত অনেক রোগী হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে ভিড় জমাচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে জটিল রোগীদের উন্নত চিকিত্সার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যালে রেফার করছেন স্থানীয় চিকিত্সকরা। বিশেষ করে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে ম্যালেরিয়ার জীবাণু বাহক এনোফিলিস জাতীয় মশার প্রজনন বেড়েছে। ভারী বৃষ্টি হলে মশার প্রজনন ক্ষেত্র নষ্ট হয়ে যায়।
তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে রাঙ্গামাটি জেলার দুর্গম ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো। জেলার বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি ও জুরাছড়ি এলাকায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বেশি। বছরের মে, জুন ও জুলাই মাসে ম্যালেরিয়া রোগের বিস্তার ঘটে। জুন মাসে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। রাঙ্গামাটি জেলা সিভিল সার্জন ডা. শহীদ তালুকদার ইত্তেফাককে বলেন, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাতে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়ে। গত জুন মাসে প্রায় ৭০০ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ১১০০ জন। কয়েকটি এনজিওসহ আমরা ম্যালেরিয়া প্রকোপ এলাকায় সচেতনতামূলক কাজ করছি। আক্রান্তদের দ্রুত চিকিত্সাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
বান্দরবান এলাকায়ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। জেলার বিশেষ করে আলীকদম ও থানচি এলাকায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বেশি। এসব এলাকা দুর্গম। যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ। জেলার সিভিল সার্জন ডা. অং সু ফ্রো মারমা ইত্তেফাককে বলেন, বান্দরবানে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ কম দেখা গেলেও আশপাশের জেলার দুর্গম এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। গত বছর ২০১৮ সালে এ সময়ে ১১০০ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল। আর একই সময়ে এবার ৩৫০ জন আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগসহ ১৪টি এনজিও বান্দরবান জেলায় ম্যালেরিয়া নির্মূলে কাজ করছে। বিনামূল্যে রোগীদের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িও ম্যালেরিয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ জেলার মধ্যে দীঘিনালা এলাকায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বেশি। জেলার সিভিল সার্জন ডা. ইদ্রিস মিয়া বলেন, গত জুন মাসে ১৩০ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। মে মাসে হয়েছে ৭০ জন। পার্শ্ববর্তী রাঙ্গামাটি জেলার সীমান্ত এলাকা থেকে অনেক রোগী আমাদের হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে আসছে। তবে আমরা জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ম্যালেরিয়া নির্মূলে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। কক্সবাজার জেলার সির্ভিল সার্জন ডা. আবদুল মতিন বলেন, জেলায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ নেই। গত জুন মাসে বান্দরবান থেকে একজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পরে তাকে চমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে ঐ রোগী মারা যায়।’
তবে চট্টগ্রাম জেলায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ কম। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী ইত্তেফাককে বলেন, গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ২৪ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। গত বছর আক্রান্ত হয়েছিল ১১৬ জন। এ পর্যন্ত ৬ জন আক্রান্ত রোগী চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ভর্তি হয়েছে। তবে এসব রোগী পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে এসে ভর্তি হয়েছে।’ চট্টগ্রাম মেডিক্যালের ৩টি মেডিসিন ওয়ার্ডে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত জটিল রোগীদের চিকিত্সাসেবা দেওয়া হয়।
