ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে প্রতিবেশীর বাড়ির চালের ওপর চার বোতল ফেনসিডিল পাওয়ার অভিযোগে ১৩ মাসের মেয়েসহ গ্রেফতার গৃহবধূ চায়না খাতুন এখনো জেলহাজতে রয়েছেন। গতকাল বুধবার পর্যন্ত তার জামিন হয়নি। এদিকে তাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে এক এসআইয়ের ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ তদন্তে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাস গতকাল কালীগঞ্জে এসেছিলেন।
গত রবিবার ফেনসিডিল পাওয়ার অভিযোগে পুলিশ থানায় নিয়ে যায় কালীগঞ্জের ব্রিকফিল্ড এলাকার চায়না খাতুনকে (৪৫)। চায়নার কোলে ছিল ১৩ মাসের মেয়ে। মাকে ছাড়াতে বড় মেয়ে ছালমা (২০) থানায় গেলে এসআই দেলোয়ার ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। মা এবং ১৩ মাসের বোনকে বাঁচাতে নিজের গয়না বন্ধক রেখে ৩০ হাজার টাকা জোগাড় করে পুলিশকে দিলেও মুক্তি মেলেনি। দুপুরের পর তাদের ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও সোমবার সকালে চায়না বেগমকে ১৩ মাসের শিশুসহ আদালতে পাঠিয়ে দেয় পুলিশ।
আটক চায়না বেগমের স্বামী আব্দুস সালাম ও তার পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, শহরের ব্রিকফিল্ড এলাকায় তারা বসবাস করেন। রবিবার সকালে বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ করছিলেন চায়না বেগম। এ সময় প্রতিবেশী সেলিমের পুত্র ঈমনসহ ১০/১২ যুবক তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা বাড়ি সংলগ্ন প্রতিবেশী শিল্পি খাতুনের চালের ওপরে থাকা চার বোতল ফেনসিডিল বের করে চায়না খাতুনকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়। পরে তারা থানাতে গেলে এসআই দেলোয়ার ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। দরকষাকষির একপর্যায়ে চায়না বেগমের বড় মেয়ে ছালমা খাতুন তার গলার দুইটি চেইন ও দুইটি কানের দুল বাজারে একটি স্বর্ণের দোকানে বন্ধক রেখে রবিবার সকালে থানায় গিয়ে এসআই দেলোয়ার হোসেনকে ঐ ৩০ হাজার টাকা দেন। তবে এসআই দেলোয়ার হোসেন টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আটক চায়না বেগম একজন পুরাতন মাদক ব্যবসায়ী। জনতা মাদকসহ থানায় সোপর্দ করায় তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি ইউনুচ আলী জানান, এসআই দেলোয়ার কোনো আসামির পরিবারের নিকট থেকে টাকা নিয়েছেন এমন খবর তিনি জানেন না। তবে তদন্তপূর্বক দোষীসাব্যস্ত হলে এসআই দেলোয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
