সময়ের সেরা দল, সবচেয়ে অভিজ্ঞ দল নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। র্যাংকিংয়ের সাত নম্বর দলটা পাখির চোখ করেছিল টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালকে। মঙ্গলবার ভারতের কাছে হেরে সেমিতে খেলার স্বপ্নের সমাধি হয়েছে। টাইগারদের শেষ চারে খেলা হচ্ছে না নিশ্চিত হওয়ার পরই শুরু হয়েছে সমালোচনার মিছিল।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হালের ট্রেন্ড অনুযায়ী ক্রিকেটারদের প্রতি চলছে তীর্যক আক্রমণ, ট্রলের হাস্য-রস। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গতকাল দিনভর দেখা গেছে, সমর্থকদের রোষানলের শিকার হয়েছেন ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবালকে ঘিরেই অনলবর্ষী ক্ষোভ ঝরছে। মঙ্গলবার রোহিত শর্মার ক্যাচ ফেলা, বিশ্বকাপ জুড়ে ব্যাটিংয়ে আশানুরূপ পারফরম্যান্স করতে না পারায় তামিমের সমালোচনায় মুখর সবাই। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে কেন উইলিয়ামসনের রানআউট মিস করা মুশফিকুর রহিমেরও রেহাই নেই। তবে সবচেয়ে বেশি তোপের মুখে আছেন মাশরাফি। প্রায় ১৮ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার, পেসার হিসেবে এতগুলো বছরে দেশের জার্সিতে তার অর্জন, অধিনায়কের ভূমিকায় দেশের ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তার অবদান, নিবেদন—সবই খড়কুটোর মতো উড়ে যাচ্ছে মুহূর্তের সমালোচনার তোড়ে।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেমিতে খেলতে না পারার জন্য যতটা না দায়ী করা হচ্ছে মাশরাফিকে, তার চেয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নড়াইল এক্সপ্রেসের বিদায়ের দাবিটাই জোরালো দেখাচ্ছে। সেখানে বিশ্বকাপে ডানহাতি এই পেসারের ম্লান পারফরম্যান্স কিছুটা ভূমিকা রাখছে বটে। অবশ্য মূল সুরটা হলো; ৩৬ বছরের মাশরাফিকে যেন আর দেখতে চাইছেন না ক্রিকেটমোদীরা। সাতটি অস্ত্রোপচারের পরও দেশের জন্য অদম্য সাহসিকতায় ছুটে বেড়ানো এই কিংবদন্তির শেষটা চলতি বিশ্বকাপেই দেখতে মুখিয়ে অনেকে। সম্মানের সঙ্গে বিদায়ের কথা অস্ফূট স্বরে উচ্চারণ হচ্ছে। তবে এখন সর্ববঙ্গীয় দাবিটা হলো; মাশরাফির অবসর।
দেশের অভ্যন্তরে, অন্তর্জালের আয়নায় আলোচিত বিষয়গুলোর ঢেউ আছড়ে পড়ছে লন্ডনে বিশ্বকাপের আবহেও। দল সূত্রের খবর, মাশরাফির অবসরের আলোচনা সেখানেও থেমে নেই। খুব ক্ষীণ সুরে হলেও মহামঞ্চ থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের মহানায়কের বিদায় ধ্বনি বাজছে।
লন্ডন থেকে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও বিশ্বকাপই হতে পারে ২২ গজে দেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়কের শেষ পদচারণা। আগামীকাল লর্ডসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচটাই মাশরাফির ক্যারিয়ারে যতি চিহ্ন এঁকে দিতে পারে! যদিও এখন পর্যন্ত তা সম্ভাবনার অঙ্কেই বিরাজ করছে।
সূত্র জানায়, তার বিদায় নিয়ে বিসিবিও পরিকল্পনা করবে। গতকাল জানা গেছে, চলতি মাসেই শ্রীলঙ্কা সফরে তিনটি ওয়ানডে খেলতে যেতে পারে বাংলাদেশ। ওই সিরিজে ইতি টানতে পারেন মাশরাফি। কারণ তারপর দেশের মাটিতে দেড় বছর কোনো ওয়ানডে নেই বাংলাদেশের। আবার শ্রীলঙ্কা সফরে তিনি খেলবেন কিনা, নাকি বিশ্বকাপেই বিদায় বলবেন, সেই আলোচনাও হচ্ছে। এই চিন্তার মূলে আসলে মাশরাফির হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট। পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাচ্ছেন না বলে চোট ভালো হচ্ছে না। অনেক দিন ধরেই হ্যামস্ট্রিং ভোগাচ্ছে তাকে। এই চোট নিয়ে লঙ্কা সফরেও কতটা ভালো করতে পারবেন তা ভাবনার বিষয়।
সবমিলিয়ে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী (২৬৬) মাশরাফির বিদায়টা অত্যাসন্ন বলতেই হচ্ছে। ২০১৯ বিশ্বকাপকে টার্গেট করে এগিয়েছিলেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই ক্রিকেটার। দল বিশ্বকাপে সেমিতে খেললে হয়তো প্রলম্বিত হতে পারত তার ক্যারিয়ার। কিন্তু শেষ চারে খেলা হচ্ছে না টাইগারদের। আর তাতেই দেশজুড়ে তারুণ্যের প্রেরণার উত্স মাশরাফির অবসর এখন দৃষ্টিসীমায়।
