সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

দেবহাটায় ইছামতির তীরে মিনি সুন্দরবন

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৩০

শীত মৌসুমে সব বয়সি পর্যটককে মুগ্ধ করতে নতুন সাজে সেজেছে ইছামতির তীরে গড়ে তোলা ‘রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটনকেন্দ্র’। পরিপূর্ণ বিনোদনকেন্দ্রের রূপ দিতে সব ধরনের ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। যোগাযোগ ব্যবস্থা, সুপেয় পানি, পর্যাপ্ত বসার স্থান, বিশ্রাম কক্ষ, সেমিনার রুম, রান্নার স্থান, ইন্টারনেট ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে এখানে।

তথ্যমতে, এক সময়ের উপজেলার শীবনগর এলাকায় নদীভাঙন রক্ষায় গড়ে তোলা বন এখন মানুষের বিনোদনের খোরাক জোগাচ্ছে। সরকারের রাজস্ব আদায়ে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। সেই সঙ্গে এই বিনোদনকেন্দ্রকে ঘিরে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

জেলার সদর হতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে ইছামতি নদীর তীরে শিবনগর মৌজায় প্রায় ১৫০ একর জমি জুড়ে রয়েছে এ বিনোদনকেন্দ্রটি। এটি উপজেলার ‘রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটনকেন্দ্র’ নামে পরিচিত। সুন্দরবনের আদলে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ বৃক্ষের চারা এনে রোপণ করে ব্যাপক বনের সৃষ্টি করা হয়েছে। এখানে সুন্দরবনের কেওড়া, বাইন, গোলপাতা, কাঁকড়া, নিম, সুন্দরী, হরকচাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ উদ্ভিদ রয়েছে। বনের পাশে ১০ একর জমির বুকে রয়েছে ‘অনামিকা লেক’। লেকে রয়েছে শান বাঁধানো পাকা ঘাট। বিনোদন প্রিয়াসীদের জন্য রয়েছে বসার স্থান। রয়েছে ঘোড়ার পিঠে ওঠা ও ইঞ্জিনচালিত বোটে চড়ার সুযোগ। শিশুদের আনন্দ দেওয়ার জন্য রয়েছে জীবন্ত ও কৃত্রিম বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখি। ফলে সহজেই সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় এখানে।

বিনোদনকেন্দ্রটির ম্যানেজার সোহেল রানা জানান, সার্বিক নিরাপত্তা ও সুন্দর পরিবেশ যাতে বজায় থাকে সে জন্য সর্বদা আমরা তত্পর। ছুটির দিন এখানে অসংখ্য মানুষ বেড়াতে আসেন। জায়গাটি নদীর তীরে হওয়ায় এখান থেকেই টাকি পৌরসভা ও ভারতের সীমান্ত দেখা যায়। পর্যটকদের সুবিধায় পাকা রাস্তা, বিদ্যুত্, নামাজের ঘর, বাথরুম, পানির লাইন সব কিছুর ব্যবস্থা কার হয়েছে। পিকনিকের জন্য স্পট আছে। দূরদূরন্ত থেকে মানুষ পিকনিক করতে আসে এখানে।

দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান জানান, সব বয়সি মানুষের উপযোগী বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মিনি সুন্দরবনে বিভিন্ন সংযোগ ঘটানো হয়েছে। এখানে আসলে সুন্দরবনের স্বাদ পাওয়া যাবে। নির্মল বাতাসে মনোমুগ্ধকর এই বনটিতে আসা এবং উপভোগ করার জন্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

ইত্তেফাক/এএইচপি