ভারতের বিরোধীদল জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন রাহুল গান্ধী। গতকাল বুধবার পদত্যাগের বিষয়টি জানানোর কয়েক ঘণ্টা পর পদত্যাগপত্রটি টুইটারে প্রকাশ করেন তিনি। চিঠিতে তিনি নির্বাচনে ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগের কথা জানান। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন সভাপতি নির্বাচন করা হবে বলে কংগ্রেস দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
টুইট করা চার পৃষ্ঠার চিঠিতে রাহুল গান্ধী বলেন, কংগ্রেসের হয়ে কাজ করতে পারাটা আমার জন্য সম্মানের। যে দলের মূল্যবোধ ও আদর্শ আমাদের সুন্দর দেশের জীবন রক্ষার শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। এই দেশ ও দলের ভালোবাসার জন্য আমি ঋণী। কংগ্রেসের সভাপতি হওয়ায় ২০১৯ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য আমি দায়ী। দলের ভবিষ্যতের জন্য জবাবদিহিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই সভাপতির পদ থেকে আমি পদত্যাগ করছি। দল ঢেলে সাজাতে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
চিঠিতে তিনি আরো বলেন, বিজেপির প্রতি আমার কোনো বিদ্বেষ বা ক্ষোভ নেই। তবে আমার শরীরের প্রতিটি ‘সেল’ তাদের মতাদর্শের বিরোধিতা করে। লোকসভা নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। তার দাবি কংগ্রেস শুধু রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে লড়েনি বরং ভারত রাষ্ট্রের সমগ্র ‘মেশিনারি’ এর বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, ভারতের প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা বলে আর কিছু অবশিষ্ট নেই। প্রতিষ্ঠানে আরএসএসের মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা পাওয়ায় আমাদের গণতন্ত্র মৌলিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
দিনের শুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাহুল গান্ধী বলেন, আমি পদত্যাগপত্র আগেই জমা দিয়েছি। আমি আর কংগ্রেস সভাপতি নই। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির উচিত দ্রুত বৈঠক ডেকে নেতা নির্বাচন করা। আমি এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে চাই না। সেক্ষেত্রে জটিলতা বাড়বে। তিনি বলেন, আমি দলের সঙ্গে থাকব এবং দলের হয়ে কাজ অব্যাহত রাখব। একইসঙ্গে তিনি গান্ধী পরিবারের বাইরের কাউকে সভাপতি করার আহবান জানিয়েছেন। রাহুলের এই সিদ্ধান্তের পর গান্ধী পরিবারের বাইরে থেকে তৃতীয়বারের মতো কেউ সভাপতি হতে পারেন।
গত লোকসভা নির্বাচনে গোটা দেশেই অত্যন্ত খারাপ ফল করে কংগ্রেস। রাহুল গান্ধী নিজে কংগ্রেসের ঘাঁটি বলে পরিচিত আমেথিতে বিজেপি প্রার্থী স্মৃতি ইরানির কাছে হেরে যান। যদিও কেরালার ওয়ানাদ আসনে জিতেছেন তিনি।
লোকসভা নির্বাচনে দলের ব্যর্থতার পর ২৫ মে পদত্যাগ করেন রাহুল গান্ধী। তার পদত্যাগের বিষয়টি তাত্ক্ষণিকভাবে নাকচ করেন কংগ্রেসের নেতারা। অনেকেই তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। যেসব রাজ্যে কংগ্রেস সরকার রয়েছে—সেখানকার মুখ্যমন্ত্রীরাও তাকে পদে থাকার আহবান জানিয়েছেন। তবে রাহুল গান্ধী শেষ পর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকায় দলকে এখন নতুন নেতা খুঁজতে হচ্ছে।
