সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

চট্টগ্রামে প্রবাসী বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:১৮

চট্টগ্রামের রাউজানে মো. মুছা (৪৫) নামের এক ওমান প্রবাসী ও বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাউজান পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপাড়া জামে মসজিদের সামনে জুমার নামাজের পর এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত মুছা পৌর সভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপাড়া এলাকার মৃত কবির আহমেদের ছেলে ও ওমানে ওয়ালজা শাখা বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন।  

জানা গেছে, নিহত মুছা গিয়াসউদ্দীন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। দেশে আসলে শ্বশুরবাড়ি হাটহাজারীতে ভাড়া বাসায় থাকতেন। 

নিহতের ভাই মোহাম্মদ ইউছুফ বলেন, ভাইয়ের সঙ্গে আমি রাউজান হাজীপাড়া জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষ করে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে মা-বাবার কবর জেয়ারত শেষ করি। এ সময় হঠাৎ দুই যুবক এসে আমার ভাইকে মসজিদের পাশে টয়লেটের সামনে ডেকে নিয়ে নির্দয়ভাবে মারধর শুরু করে। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন যুবক মারধরে অংশ নেয়। মারধরের এক পর্যায়ে আমার ভাই মাটিতে লুটেয়ে পড়ে। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

নিহতের শ্যালক ওমর ফারুক বলেন, আমার বোনের স্বামী আগে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। তিনি গত ১৭ জানুয়ারি দেশে ফিরে হাটহাজারী নন্দীর হাট এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। আজ (শুক্রবার) মা-বাবার কবর জেয়ারত করতে গ্রামের বাড়ির মসজিদে আসলে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। তিনি দুই সন্তানের জনক। বড় ছেলে  মারজান হোসেন সানি (১০) স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি এবং ছোট ছেলে তানভীর হোসেন সাঈদ (৪) শিশু শ্রেণি পড়ে।

নিহতের সেজ ভাই তৌফিকুল ইসলাম ও বোন শাহিন আক্তার বলেন, আমাদের ভাই মুছাকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে এমন সংবাদ শুনে আমরা ছুটে এসেছি।

নিহতের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, আমার স্বামীকে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমার ২ ছেলেকে এতিম করেছে। আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই।
 
রাউজান থানার ওসি জাহিদ হোসেন বলেন, পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে এমন কোনো অভিযোগ আমরা পায়নি। চিকিৎসক মাধ্যমে জানতে পেরেছি তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। যেহেতু রাজনৈতিক বিষয় জড়িত আছে তাই আমরা ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশ পাঠিয়েছি। সেখান মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। যদি পরিবারের পক্ষ হতে কোনো অভিযোগ আসে আমরা তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ইত্তেফাক/পিও