তুচ্ছ ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ অন্তত ৬৫ জন আহত হন। এর মধ্যে ৩৩ জন শিক্ষার্থী ও একজন পুলিশ সদস্যকে সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টার ও হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয়। গতকাল বুধবার ক্যাম্পাসের বটতলা এলাকায় দুপুর ২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষ চলে। এ সময় শিক্ষার্থীদের গুলি ছুড়তেও দেখা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুর ২টার দিকে উঁচু বটতলার বেলালের দোকানে মিষ্টি খেতে যান বঙ্গবন্ধু হলের ৪৬তম ব্যাচের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের দ্বীপ বিশ্বাস ও বাংলা বিভাগের আলিফ হাসান দীপু। এ সময় মওলানা ভাসানী হলের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৌরভ কাপালীর সঙ্গে ধাক্কা লাগে দ্বীপের। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে দ্বীপ ও দীপুকে চড়-থাপ্পড় মারেন সৌরভ। খবর পেয়ে বঙ্গবন্ধু হলের শিক্ষার্থীরা লাঠি, চাপাতি, রড, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বটতলা এলাকায় জড়ো হয়। কিছুক্ষণ পর ভাসানী হলের শিক্ষার্থীরাও একই রকম প্রস্তুতি নিয়ে বটতলায় এলে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে উভয় হলের সিনিয়র ছাত্রলীগ নেতারা নেতৃত্ব দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংঘর্ষ শুরু হলে প্রক্টরিয়াল টিম ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক সেখানে উপস্থিত হন। তাঁরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। সংঘর্ষ চলাকালে বঙ্গবন্ধু হলের শিক্ষার্থীদের ১৫ রাউন্ড গুলি ছুড়তে দেখা গেছে। বিকাল ৪টার দিকে আশুলিয়া, সাভার মডেল থানা, ধামরাই ও ডিবি পুলিশ যৌথভাবে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তারা বটতলায় উপস্থিত হয়ে ভাসানী হলের দিকে অন্তত চারটি টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। আর বঙ্গবন্ধু হলের শিক্ষার্থীদের দিকে দুটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ সময় শিক্ষার্থীদের ছোড়া ইটের আঘাতে আশুলিয়া থানার ওসি মো. রেজাউল হক দীপু পায়ে আঘাত পান।
এছাড়া সংঘর্ষ চলাকালে শিক্ষার্থীদের ছোড়া ইটের আঘাতে আহত হন সহকারী প্রক্টর মহিবুর রৌফ শৈবাল ও বঙ্গবন্ধু হলের ওয়ার্ডেন মেহেদী ইকবাল। সংঘর্ষের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করায় দৈনিক সংবাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জোবায়ের কামালকে মারধর করা হয়। এছাড়া দৈনিক ভোরের কাগজের রিজু মোল্লা ও বার্তা ২৪.কমের রুদ্র আজাদকে লাঞ্ছিত করে শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আমরা হলে ফিরিয়ে দিয়েছি। যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’
আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাবেদ মাসুদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ফোন পেয়ে আমরা অনতিবিলম্বে ফোর্স নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করি। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, ‘সংঘর্ষে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সংগঠন থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনকেও বলব জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’
