সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতিকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করলেন মেয়র আইভী

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৪:৫৮

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে এবার পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীদের পরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগ নেত্রী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভি অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছেন। 

শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা প্রথমে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে তালা ঝুলানোর পর রাতে মেয়র আইভী নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন। 

শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগে ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীদের এক বৈঠকে এ ঘোষণা দেন আইভি। পৌরসভা থাকাকালীন সময় আমি সারাদিন পৌরসভা চালিয়েছি। পাশাপাশি সবার খোঁজ খবরও রেখেছি। হয়তো পার্টি অফিসে কম আসতাম কিন্তু সবার খোঁজ খবর রেখেছি। ২০০৯ সালে যখন শামীম ভাই দেশে আসলো তখন খোকন সাহা আমাদের ছেড়ে ওদিকে চলে গেল। জানতাম আমি এটা হবে। আমি ওই সময় আওয়ামী লীগ যুবলীগ ছাত্রলীগ মহিলা আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে অনেকগুলো সংগঠনের অভিষেক অনুষ্ঠান ও কমিটি হয়েছে আমার উপস্থিতিতে। শহর আওয়ামী লীগ যেদিন হয় আওয়ামী লীগ পাঠাগারে সাবের হোসেন চৌধুরী প্রধান অতিথি ছিলেন। সেখানে উনি বসে বলেছিলেন, আপনি কার কথা বলেন, ওর উপরে ছাদ নাই কার কথা বলেন আপনি? আমি বললাম, না আমি পৌর সভার চেয়ারম্যান হয়েছি, আনোয়ার কাকা এই পদ চেয়েছে আমি বৃহত্তর স্বার্থে কোনো একটা ছেড়ে দেব। আপনারা জানেন আমি ১১ সালে কীভাবে নির্বাচন করলাম। নির্বাচনে পাশ করলাম। আমার সঙ্গে নেত্রীর কি কথা হয়েছে গণভবনে আমি জানি। ২০১১ সালে পুরো বৃহত্তর দেওভোগ আমরা একসঙ্গে ছিলাম। আমরা একসঙ্গে নির্বাচন করেছি। করার পর উনি আগেই আমাকে শর্ত দিয়েছিল মহানগরে পদ চাইতে পারবা না। মহানগরের সভাপতি উনি আমার থেকে চেয়ে নিয়ে ছিল। উনি মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হলেন। ২০০৩ থেকে আজকে ২০১৪ পর্যন্ত উনারাই নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০১১ তে কমিটির হবার পর আমার নামটা পর্যন্ত তারা কোথায়ও রাখে নাই। 

আইভি বলেন, আমি যখন গণভবনে গিয়েছি নেত্রী একদিন আমাকে বলছে, তোমার নাম তো মহানগরে নাই। আমি বললাম, আমি একসঙ্গে শামীম ভাইয়ের সাথে মারামারি হবে দরকার নাই। নেত্রী আমাকে এখানে রাইখেন না। আপনি আমাকে যেখানে মন চায় সেখানে দিয়া দেন। পরবর্তী নেত্রী আমাকে জেলা আওয়ামী লীগে দিলেন। কোনদিন দেখেছেন প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারীর সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দেয়? আমি ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়ে আমাদের কিছু লোককে আমি এখানে স্থান দিলাম। উপজেলা পরিষদে আমি জানতাম উনি ফেল করবো তাও আমি কাদিরের পক্ষে গেলাম না। আমি চুপচাপ ছিলাম। আমার নানী বাড়ি আমার মামারা এটা নিয়া অভিযোগ করেছে। দেওভোগের কে কোনদিকে যাবে এটা তাদের ব্যাপার আমি তো চুপ ছিলাম। ৩ নাম্বার হইলো উনি। এখন যেই লোকটাকে আমি বার বার ছাড় দিচ্ছি। একটা পদে আছেন উনি, অবশ্যই উনাকে আমি সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। ভুলে যান কেন ২০১৬ সালে উনি তো আমার বিপরীতেই প্রার্থী হয়েছিল। আমি তো দেওভোগের সবকিছু আওয়ামী লীগের বৃহত্তর স্বার্থে ছাড় দেই। আমি কোনোদিনও এখানে এসে মাতবরি করি না। আমার সঙ্গে আপনাদের দেখা সাক্ষাৎ হয়, আপনারা আমার জন্য কাজ করেন কিন্তু আমি কখনো দল নিয়া মাতামাতি করি নাই। এই গ্রুপিংয়ের ভয়ে আমি কখনো উনার বিপক্ষে এত লোকজন বলার পরও যাই নাই। এই দেওভোগ নারায়ণগঞ্জকে নেতৃত্ব দিয়েছে। দেওভোগের কত মানুষ আওয়ামী লীগের ৬২, ৬৬, ৫২, ৭১ এর আন্দোলনে কাজ করেছে। কিন্তু দেওভোগের কতিপয় মানুষ আমাদের এই নেতাদের নাম বিলুপ্ত করে এখন নারায়ণগঞ্জের ধারক বাহক হয়ে যাচ্ছে। যারা এই দেওভোগকে এইভাবে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে আমাদের সেই পূর্বপুরুষকে অসম্মানিত করসে। উনাকে (আনোয়ার) আমি আজকে এখানে দাঁড়িয়ে দেওভোগের মানুষ হিসেবে অবাঞ্চিত ঘোষণা করলাম।

ইত্তেফাক/পিও