পোশাকে ৫২’র ছাপ

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৭:৩৪

১৯৫২ স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট গড়ে তোলে। ৫২ তেই হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে মাতৃভাষা বাংলা পাওয়া। ৫২’র ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস আজও জ্বলজ্বল করছে পৃথিবীর বুকে। একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বইমেলা তো বটেই সারাদেশে থাকে ভিন্ন আমেজ। একুশের চেতনায় আমাদের পোশাকেও থাকে ৫২’র ছাপ। তাই নিয়ে লিখেছেন ফাতিন আহমেদ। 

ছবি ও পোশাক: রঙ বাংলাদেশ

থিম অনুযায়ী পোশাক
একুশের চেতনা শব্দটি এক বিষয়। তবে পোশাকের ক্ষেত্রে থিমকে জোর দিতেই হয়। বিশেষত একুশের ক্ষেত্রে থিমটিই প্রাধান্য পায় বেশি। আজকাল ফ্যাশন হাউজগুলো থিমের ক্ষেত্রে শহীদ মিনার, অক্ষর, গান, কবিতা, স্মারক ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকে।  পোশাক এক ধরনের চলমান ক্যানভাস। এই ক্যানভাসে থিমের উপস্থাপনা অনন্য মাত্রা সংযোজন করে থাকে। একুশে প্রায় সব ফ্যাশন হাউজের কালেকশনেই এখন রয়েছে শাড়ি, সিঙ্গেল কামিজ, পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট এবং ছোটদের টি-শার্ট, ফ্রক, সালোয়ার-কামিজ। মেয়েরা আজকাল কটি বা শ্রাগ পরতে পছন্দ করেন। সবুজ কামিজের সঙ্গে এমন কোনো অনুষঙ্গ পরা যেতে পারে, যার রংটা টকটকে লাল। আবার লাল জামার সঙ্গে সবুজ অনুষঙ্গের সমন্বয়ও করতে পারেন। অনেক হাউস আবার বড়দের ও ছোটদের জন্য একই নকশার পোশাকও এনেছে। অনেক সময় গোটা পরিবারের কালেকশন আছে আবার অনেক সময় যুগলেরও থাকে। যেভাবেই হোক, একুশের পোশাকে থিমের গুরুত্ব থাকে আলাদা।

ছবি ও পোশাক: রঙ বাংলাদেশ

প্রভাতফেরির পোশাক
একুশে ফেব্রুয়ারি শুরু হয় প্রভাতফেরি দিয়ে। গলায় গান আর হাতে ফুলের মালা নিয়ে ধীর পায়ে স্মৃতির মিনারের দিকে গুটি গুটি পায়ে এগোয় সবাই। দিনটি অবশ্য কালো আর সাদা রঙের। যদিও এখন কিছু কিছু ক্ষেত্রে লাল রঙের দেখা পাওয়া যায়। সাদা রঙের শাড়ি তাতে কালো পাড় কিংবা সাদা রঙের সালোয়ার, ওড়না আর কালো রঙের কামিজে মেয়েরা সাজায় নিজেদের। শাড়িতে থাকে নানা জলছাপ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাতে আঁকিবুঁকি থাকে স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, বিভিন্ন অক্ষর যেমন অ, আ, ই, ঈসহ সব বর্ণমালা। কিছু ক্ষেত্রে আবার বাংলাদেশের যুদ্ধের সময়কার বিভিন্ন চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়। 

একুশে ছেলেদের পোশাক
ছেলেদের টি-শার্ট থেকে শুরু করে শার্ট, পাঞ্জাবি আর পাজামাতেও দেখা যায় এই সাদা আর কালো রঙের খেলা। পাঞ্জাবিতে কখনো সম্পূর্ণ কালো আবার কখনো সম্পূর্ণ সাদা রঙের কাজ চোখে পড়ে। টি-শার্টের ক্ষেত্রে বড় বড় বর্ণ কিংবা খোলা জানালার স্বাধীনতার প্রতীক দেখা যায়।

ছবি ও পোশাক: রঙ বাংলাদেশ

একুশে রঙের ভাষা
একুশের রং— শব্দটি কেমন যেন শোনায়। সবকিছুরই থাকে আলাদা ভাষা, আলাদা রং। আমাদের কাছে শোকের রং কালো আর সাদা হলো শান্তির। এই দুই রং মিলেমিশে আরো বেশি স্নিগ্ধ হয়ে ওঠে। মেয়েরা সাদা-কালো শাড়িতে, ছেলেরা পাঞ্জাবিতে একুশের স্মৃতি বসনে নিয়ে আসতে পারেন। তবে আজকাল একুশের চেতনা প্রকাশে বাড়ছে লাল রঙের ব্যবহার। মোটিফ হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে বর্ণমালা। অনেক সময় লালের ওপর কালো অক্ষর আবার অনেক সময় কালোর ওপর লাল অক্ষর। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাদা রঙের শাড়িতে একুশের কবিতা বা স্লোগান। একই কাজ ফতুয়া, পাঞ্জাবিতেও দেখা যায়। গেঞ্জিও বাদ যাচ্ছে না তালিকা থেকে। মেয়েরা সাদা-কালো শাড়িতে, ছেলেরা পাঞ্জাবিতে এদিন একুশের স্মৃতি বসনে নিয়ে আসেন।

ইত্তেফাক/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন