ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিত্সাধীন জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এইচএম এরশাদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে সিঙ্গাপুরের চিকিত্সকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিত্সা করাতেন এরশাদ।
গতকাল বুধবার বিকালে অনুষ্ঠিত জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্যদের যৌভসভায় সভাপতিত্বকারী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের জানিয়েছেন, সিএমএইচে এরশাদের চিকিত্সকরাই সিঙ্গাপুরে যোগাযোগ করেছেন। সিঙ্গাপুর থেকে চিকিত্সককে ঢাকায় আনার বিষয়েও কথা হচ্ছে। দলীয় নেতাদের জিএম কাদের এও জানান, সিএমএইচের চিকিত্সায় এরশাদের পরিবার সন্তুষ্ট। তারপরেও যদি চিকিত্সকরা মনে করেন তাকে বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হবে। দলীয় নেতারাও এতে সায় দিয়ে বলেছেন, তারা সবাই এরজন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দেবেন। যৌথসভা শেষে জাপার একাধিক প্রেসিডিয়াম সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। এছাড়া এরশাদের জন্য আগামীকাল শুক্রবার সারাদেশে মসজিদে দোয়া এবং মন্দির-গির্জায় প্রার্থনা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে সভায়।
এরশাদ মারা গেলে তাকে কোথায় দাফন করা হবে, গতকালের এই সভায় এনিয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয়। কেউ কেউ সামরিক কবরস্থানের কথা বলেছেন। কেউ বলেছেন নিজস্ব অর্থে জায়গা কিনে সেখানে সমাহিত করার জন্য। জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ কবরের জন্য সাভারে জমি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মামুন কবরের জমি কিনতে অর্থ সহযোগিতা দেওয়ার কথা বলেন।
এর আগে, গতকাল দুপুরে এরশাদের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জাপার বনানী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জিএম কাদের বলেছেন, গতকাল সকালে তিনি হাসপাতালে গিয়ে এরশাদের কপালে হাত রেখেছেন ও তার হাত ধরেছেন। এসময় এরশাদ চোখ মেলে তাকান, তবে তিনি কথা বলতে পারছেন না। এরশাদের অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে বলেও দাবি করেন কাদের।
