সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

ঘিওরে উদ্যোক্তা শত কৃষক

বিশেষ পদ্ধতিতে ধান চাষ, উৎপাদনে আশার আলো

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:০০

আধুনিক যন্ত্রনির্ভর ও সরকারি প্রণোদনার আওতায় ‘সমলয়’ চাষাবাদে ধান চাষ পদ্ধতি পালটে দেওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে ঘিওরের কৃষকরা। উপজেলায় এ বছরই প্রথম এ পদ্ধতিতে ধান চাষের আওতায় আনা হয়েছে শত কৃষককে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব চাষিকে এ পদ্ধতিতে শরিক করা হবে এবং এতে কৃষিবিপ্লবের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ। ইতিমধ্যে যন্ত্রবান্ধব ‘সমলয়’ চাষ পদ্ধতি কৃষকদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। তবে এ পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় অনেক কৃষক সরকারিভাবে প্রশিক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানায়, একটি মাঠে বা নির্দিষ্ট অংশের কৃষক সবাই মিলে একসঙ্গে একই জাতের ধান, একই সময়ে যন্ত্রের মাধ্যমে চারা রোপণ করা হবে। এ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি থেকে চারা তোলা, চারা রোপণ ও ধান কাটা সব প্রক্রিয়া যন্ত্রের সাহায্যে একই সময় সম্পাদন করা হবে। প্রচলিত পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি ও চারা রোপণ না করে প্লাস্টিকের ট্রেতে চারা উৎপাদন করা হয়। এতে জমির অপচয় কম হয়। ২৫ দিনের মধ্যে চারা মাঠে লাগানোর উপযোগী হয়। আর এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলেই বিনা মূল্যে কৃষকরা পাবেন কৃষি প্রণোদনা।

উপজেলার মাইলাগী ফসলের মাঠে তৈরি করা হয়েছে সমলয় বীজতলা। এই ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক করতে সমলয় পদ্ধতিতে ৪০ শতক জমিতে হাইব্রিড টিয়া প্রজাতির সাড়ে ৪ হাজার ট্রেতে ৩৫০ কেজি ধানের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই এই চারায় ১০০ কৃষক তাদের ১৫০ বিঘা জমিতে আবাদ করবেন। উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাতের ধান বীজ ব্যবহার করায় ১৪০ থেকে ১৪৫ দিনের মধ্যে ফসল তোলা সম্ভব।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, স্বল্প জমিতে অধিক ধান উত্পাদনের লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে সমলয় পদ্ধতিতে বোরো ধানের বীজতলা ও চাষাবাদের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ পদ্ধতিতে কৃষি প্রণোদনার আওতায় কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে, শ্রমিক সংকট দূর হবে এবং কৃষকরা হবেন অধিক লাভবান। রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টারের মাধ্যমে চারা একই গভীরতায় সমানভাবে লাগানো হবে। ধান কর্তনে কম্বাইন্ড হারভেস্টার ব্যবহার করার ফলে ফলনও বাড়বে। কৃষকরা একসঙ্গে ধান ঘরেও তুলতে পারবেন। এ পদ্ধতির চাষাবাদে কৃষকের বিঘা প্রতি অন্তত ১২ হাজার টাকা সাশ্রয় হবে এবং বিঘা প্রতি হাইব্রিডে ৩৫ মণ ধান উৎপাদিত হবে।

ইত্তেফাক/এমএএম