সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

বৃদ্ধ দম্পতিকে বের করে দরজায় তালা দেওয়ার অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২০:২৫

ঠাকুরগাঁওয়ে ভারা বাড়িতে থাকা বৃদ্ধ দম্পতিকে বের করে দিয়ে দরজায় তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. লিটন ইসলাম ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালন করছেন।

বৃদ্ধ দম্পতি আব্দুল হালিম ও জোৎসনা বেগম জানান, গত ১০ দিন আগে পৌর শহরে ওয়ার্ড-১ দক্ষিণ সালন্দর শান্তিনগর এলাকায় স্থানীয় এ স্কুল শিক্ষিকার বাসা ভাড়া নেন। শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টায় অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ও তার লোকজন তাদের ঘুম থেকে ডেকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে বের করে দেন এবং বাড়ির মূল ফটকে তালা দিয়ে হুমকি দেন।

মূল ফটকে তালা থাকায় বৃদ্ধ দম্পতি বাড়ির সামনে বসে আছেন

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৬০ ঘণ্টা ধরে ওই দম্পতি বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। সরেজমিনে দেখা গেছে, তারা বাসার বাইরে একটি বেঞ্চে বসে আছেন।

আক্ষেপ করে তারা বলেন, আমরা ভাড়াটিয়া উঠেছি। জায়গা-জমি নিয়ে বাড়ির মালিক ও চেয়ারম্যানের মধ্যে কী সমস্যা আছে সেটা তাদের বিষয়। কিন্তু আমাদের সঙ্গে এমন অন্যায় কেনো করা হলো? আমরা বিচারের দাবি জানাই।

আব্দুল হালিম জানান, আমি একটি বেসরকারি কোম্পানির ট্রাকচালক। এভাবে বাইরে স্ত্রী-সন্তানদের রেখে কাজে যেতে হয়। আমাদের হাড়ি-পাতিল, আসবাপত্র, কাপড়-চোপড়সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সবই বাড়ির ভেতরে। ভেতরে এখন অন্য অপরিচিত ব্যক্তিরা অবস্থান করছে।

বাড়ি ভাড়া দেওয়া স্কুলশিক্ষিকা কলি ইসলাম বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। এটি পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত এলাকা।  এখানে স্থানীয় কাউন্সিলর রয়েছেন। আমার স্বামী ঘটনাটি ওইদিনই কাউন্সিলরকে জানিয়েছে। এখনও সমাধান আসেনি। একজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কোন আইনে অন্যের বাড়িতে অনুপ্রবেশ করে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটাতে পারে? পুলিশকেও জানিয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থান পরিদর্শন করে গেছে।

তিনি আরও বলেন, তালায় হাত দিলে হাত কেটে নিবে- চেয়ারম্যান এমন হুমকিও আমাদের দিয়েছে। আমরা এখন প্রত্যেকে আতঙ্কিত ও অনিরাপদ। ভাড়াটিয়ারা আমার বাড়িতেও যেতে চায় না। এখন তাদের মাঝে অনেক রাগ-আক্ষেপ রয়েছে আমাদের সবার ওপর।

স্থানীয় গৃহবধূ আমিনা বেগম বলেন, তালা দেওয়ার পর থেকে বৃদ্ধ দম্পতি আর ঘরে ঢুকতে পারেনি। আমার স্বামী দিনমজুর। সে কলি আপার বাড়িতে বেড়া বানানোর কাজ করছিল। আমাদেরকেও ভয় দেখিয়েছে চেয়ারম্যান।

স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর জমিরুল ইসলাম ঘটনা শুনে প্রথমে স্থান শনাক্ত করতে পারছিলেন না। এই প্রতিবেদক ঘটনা জানালে স্কুলশিক্ষিকার স্বামী জুয়েল ইসলাম তাকে একবার ফোন করেছিলেন বলে জানান। এছাড়া ভাড়াটে আব্দুল হালিমের কাছেও তিনি ঘটনাটি শুনেছেন।

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান লিটন ইসলাম মুঠোফোনে জানান, সেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। আমি দু'দিন সেখানে গিয়েছি। অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরাও গিয়েছিলো।

চেয়ারম্যান তালা দেওয়া ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। স্থানীয় কাউন্সিলরকে জানিয়েছিলেন কিনা- প্রশ্নের জবাবে তিনি সাক্ষাৎকার নিতে এ প্রতিবেদককে সরাসরি দেখা করতে বলেন।

পুলিশের এসআই নির্মোল রায় জানান, ৯৯৯-এ কল পেয়ে সেখানে যাওয়া হয়েছে। থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এসকে