বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

সন্দেহজনক লেনদেন বেড়েছে ৬৫ শতাংশ

এস আলম গ্রুপের অর্থপাচার নিয়ে তদন্ত চলছে। সাবেক এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে: বিএফআইইউ প্রধান

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:০০

অনলাইনভিত্তিক প্ল্যাটফরমে জুয়া, বেটিং, ক্রিপ্টো ট্রেডিং ও ডিজিটাল হুন্ডিতে প্রতারণার কারণে সন্দেহজনক লেনদেন (এসটিআর) বেড়েছে। গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে ১৪ হাজার ১০৬টি, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি। ২০২১-২২ অর্থবছরে সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছিল ৮ হাজার ৫৭১টি। অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকে বিএফআইইউ এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ের প্রতিবেদনের বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান মাসুদ বিশ্বাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএফআইইউর নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম, বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগের পরিচালক সারোয়ার হোসেন ও অতিরিক্ত পরিচালক কামাল হোসাইন।

বিএফআইইউর প্রধান মাসুদ বিশ্বাস বলেন, মানি লন্ডারিংয়ের ৮০ শতাংশ হয় ট্রেডের (আমদানি-রপ্তানি মিথ্যা ঘোষণা) মাধ্যমে। বাকি ২০ শতাংশ হয় ব্যাংকের মাধ্যমে। একবার মানি লন্ডারিং হয়ে গেলে তা ফেরত আনা যায় না। তিনি বলেন, সব সন্দেহজনক লেনদেন (এসটিআর) অপরাধ নয়। লেনদেন সন্দেহজনক হলে আমরা তদন্ত করি। তদন্তে যদি কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়, তাহলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিই।

কোকোর ২০ লাখ ডলার ফেরত :সংবাদ সম্মেলনে মাসুদ বিশ্বাস বলেন, টাকা পাচার হয়ে গেলে তা ফেরত আনা কঠিন। কারণ এর সঙ্গে অনেক পক্ষ যুক্ত থাকে। এ সময় সিংগাপুর থেকে একসময় আরাফাত রহমান কোকোর ২০ লাখ ৪১ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার ফেরত আনা হয়েছিল।

এস আলম গ্রুপের অর্থ পাচার নিয়ে তদন্ত চলছে: এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মাসুদ বিশ্বাস বলেন, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তার স্ত্রী ফারজানা পারভীনের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার অভিযোগের বিষয়ে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনুসন্ধান চলছে। মাসুদ বিশ্বাস বলেন, সর্বশেষ আদালত থেকে যে রায় এসেছে, সে অনুযায়ী আমাদের কার্যক্রম চলমান আছে। আমরা সেই কাজগুলো করছি। আদালতের আদেশের আলোকেই বিএফআইইউ এস আলমের বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।

সাবেক এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান চলছে

সাবেক এক মন্ত্রীর বিদেশে ২ হাজার কোটি টাকার সম্পদের উত্স নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করেন আরেক সাংবাদিক। এর উত্তরে মাসুদ বিশ্বাস বলেন, বড় দুটি ঘটনার এটি একটি। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেও আমরা যোগাযোগ করছি। আমাদের অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তবে অর্থ একবার পাচার হয়ে গেলে তা ফেরানো যে কঠিন, সেই বাস্তবতা তুলে ধরে বিএফআইইউ প্রধান বলেন, ‘আমরা নতুন ১০টি রাষ্ট্রের সঙ্গে তথ্য বিনিময় করতে সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) উদ্যোগ নিয়েছি। অর্থ ফেরত আনার চেষ্টা চলমান রয়েছে। আমরা অর্থ পাচার বন্ধে বেশি জোর দিচ্ছি।’

উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত ২৬ ডিসেম্বর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করে, বিদেশে এক মন্ত্রীর দুই হাজার ৩১২ কোটি টাকার ব্যবসা রয়েছে। ঐ সম্পদের তথ্য ঐ মন্ত্রী তার নির্বাচনি হলফনামায় দেননি। সংবাদ সম্মেলনে ঐ মন্ত্রীর নাম প্রকাশ করেনি টিআইবি। পরে সংবাদমাধ্যমে নাম প্রকাশ করে বলা হয়, তিনি সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। ব্রিটেনে তার ও স্ত্রীর নামে ঐ পরিমাণ সম্পদ রয়েছে।

সন্দেহজনক লেনদেন বেড়েছে:

আর্থিক খাতে সন্দেহজনক লেনদেন (এসটিআর) ও সন্দেহজনক কার্যক্রম এক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার তথ্য এসেছে বিএফআইইউর প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে, গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে এসটিআর রিপোর্টিং হয়েছে ১৪ হাজার ১০৬টি। আগের অর্থবছরের চেয়ে বেড়েছে ৬৪.৫৭ শতাংশ বা ৫ হাজার ৫৩৫টি। ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ৮ হাজার ৫৭১টি।

সন্দেহজনক লেনদেন (এসটিআর) মানেই যে অপরাধ হয়েছে, তা না-ও হতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে তথ্য খতিয়ে দেখা হয়। এসটিআরের বিপরীতে প্রমাণ পেলে বিএফআইইউ তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করে।

অর্থ পাচারের ৫৯ মামলা:
এক প্রশ্নের উত্তরে বিএফআইইউর প্রধান বলেন, বিএফআইইউর তথ্যের ভিত্তিতে এ পর্যন্ত অর্থ পাচারের ৫৯টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে দুদক করেছে ৪৭টি মামলা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সিআইডি ১০টি এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দুটি মামলা করেছে। সবগুলো মামলাই চলমান।

ইত্তেফাক/এমএএম