বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

ভুয়া গার্মেন্টস কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চায় না বিজিএমইএ

হাইকোর্টের উদ্যোগ আটকে দিয়েছে সংগঠনটি

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:০১

৪২৯টি ভুয়া গার্মেন্টস কারখানার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হোক তা চায় না মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। হাইকোর্ট ভুয়া গার্মেন্টস কারখানার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইকে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দেওয়ার পর চেম্বার আদালতে রিট করে তা আটকে দিয়েছে সংগঠনটি। সংগঠনের সভাপতি ফারুক হাসান এ রিটটি দায়ের করেন। 

উল্লেখ্য, ৪২৯টি ভুয়া তৈরি পোশাক কারখানার অস্তিত্ব নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।  ইতিমধ্যে ৬৭টি কারখানার নাম ঐ নির্বাচনের ভোটর তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে নির্বাচনি আপিল বোর্ড। তবে বাকি কারখানাগুলোর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন দিয়েছে একটি পক্ষ। এফবিসিসিআই আরবিট্রশেন ট্রাইব্যুনালে গত ৩১ জানুয়ারি ভুয়া ভোটারের বিষয়ে আবেদন দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত তা শুনানির জন্য আসেনি। এ বিষয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনালের মহাসচিব বরাবর একটি তাগাদাপত্র দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ দেওয়ার পরও এ বিষয়ে কোনো শুনানি হয়নি। এমনকি এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা আদৌ নেওয়া হবে কিনা সে বিষয়েও অভিযোগকারীকে কিছু জানানো হয়নি। এ বিষয়ে রিট আবেদন করা হলে বিচারপতি নাইমা হায়দার এবং বিচারপতি কাজী জিনাত হকের দ্বৈত বেঞ্চ গত ১২ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে ভুয়া কারখানাগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে এফবিসিসিআইকে নির্দেশ দেন। এছাড়া অভিযুক্ত ভুয়া কারখানাগুলোর ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (টিআইএন) ঠিক আছে কিনা তা যাচাইয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে সহায়তা করার জন্যও বলে হাইকোর্ট। গত সোমবার চেম্বার আদালত ফারুক হাসানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেন।

প্রসঙ্গত, বিজিএমইএর সদস্য হতে হলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কারখানার টিআইএন নাম্বার থাকতে হয়। রিটার্নও হালনাগাদ থাকতে হয়।

আগামী ৯ মার্চ তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচনের তপশিল অনুযায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে ভোটার তালিকা তৈরি হরা হয়। সে তালিকায় থাকা কয়েক জনের বিষয়ে সন্দেহ হলে ঘটনা সবার সামনে আসে। এর আগে ৪২৯টি প্রতিষ্ঠানের নামে টিআইএন আছে কিনা তা পরীক্ষা করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া একটি পক্ষ। তাদের অভিযোগ, সদ্য প্রকাশিত প্রাথমিক ভোটার তালিকায় থাকা ৪২৯ জনের কর প্রদানের তথ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিজিএমইএ নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন দৈনিক ইত্তেফাককে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সংগঠনটির আপিলের মানে হলো ৪২৯টি ভুয়া ভোটারকে রেখেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসানের মন্তব্য জানানোর জন্য ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

ইত্তেফাক/এমএএম