সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

ভূমধ্যসাগরে নৌযানে অগ্নিকাণ্ডে মাদারীপুরের ৫ জনের মৃত্যু

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৩:২৬

অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইতালি যাবার সময় নৌযানে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনরে মধ্যে ৫ জনই মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার বাসিন্দা। মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লিবিয়ার দূতাবাসের মাধ্যম ও নিহতদের বাড়িতে গিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

যুবকদের মৃত্যুর খবরে এলাকাজুড়ে চলছে শোকরে মাতম। আদরের সন্তানদের হারিয়ে দিশেহারা পরিবার। এই ঘটনায় দালালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। আর মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে পুলিশ। 

নিহতের স্বজনরা জানায়, গত ১৪ জানুয়ারি  মাদারীপুরের  রাজৈর উপজেলার বেশ কয়েকজন যুবক ইতালির উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে গত বুধবার ১৪ ফেরুয়ারী লিবিয়া থেকে দালালদের মাধ্যমে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌযানে রওনা দেয় তারা। তিউনিসিয়ার ভূমধ্যসাগরে নৌযানের ইঞ্জিন ফেটে আগুন ধরে যায়। পরে ভূমধ্যসাগরে ডুবে যায় নৌকাটি। এতে রাজৈর উপজেলার কোদালিয়া গ্রামের সজীব কাজী, পশ্চিম স্বরমঙ্গল গ্রামের মামুন শেখ, সেনদিয়া গ্রামের সজল বৈরাগী, কদমবাড়ী গ্রামের নয়ন বিশ্বাস ও কিশোরদিয়া গ্রামের কাওসারসহ ৮ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। 

এ ছাড়া এক পাকিস্তানি নাগরিকও মারা যান। খবর পেয়ে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করে স্থানীয় কোস্টর্গাড। নিহতদের খবর বাড়িতে আসলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন স্বজনরা। ঘটনার পর পলাতক অভিযুক্ত দালাল মোশারফ কাজী ও রহিম শেখ।

নিহত সজীব কাজীর পিতা মিজানুর কাজী বলেন, মানবপাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার গজিনা গ্রামের রহিম শেখ ও সুন্দরদী গ্রামের মোশারফ কাজী প্রলোভন দেখিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে নেয় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা। পরে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ইতালি পাঠালে ঘটে এই র্দুঘটনা। দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, তিউনিসিয়ার ভূমধ্যসাগরে মাদারীপুরের ৫ জন বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি মারা গেছে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/পিও