ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিত্সকের অবহেলায় ঊর্মি নামে আট মাসের এক অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যুর অভিযোগ ওঠেছে। গতকাল বুধবার ভোর ছয়টার দিকে হাসপাতালের ২১২ গাইনি ওয়ার্ডে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনদের অভিযোগ— চিকিত্সকের অবহেলায় ঊর্মির মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে জানা গেছে। উর্মি কামরাঙ্গীরচর মাতবর বাজার এলাকায় স্বামী দোকান কর্মচারী জাকির হোসেনের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
মৃতের দেবর ইমন জানান, তার ভাবি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। মঙ্গলবার রাত ১০টায় তার ব্যথা উঠলে প্রথমে শিকদার জেড এইচ ওমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিত্সকদের পরামর্শে ঘণ্টা খানেক পর তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। গাইনি ওয়ার্ডে নেওয়ার পরে তার ব্যথা আরো বেড়ে যায়। সারারাত গাইনি ওয়ার্ডে ব্যথায় ছটফট করতে থাকেন উর্মি। বিষয়টি বারবার চিকিত্সকদের জানালেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেননি। অস্ত্রোপচার লাগবে না এমনিই ডেলিভারি হবে বলে চিকিত্সকরা জানান। ভোরের দিকে উর্মি তার বেডে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এ ঘটনায় তারা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে চিকিত্সায় অবহেলার অভিযোগ এনে একটি দরখাস্ত জমা দেন।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, উর্মির পরিবার একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। ঐ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সাইদা আনোয়ারকে প্রধান করে ছয় সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা তিন কার্যদিবসে রিপোর্ট পেশ করবেন। তদন্তে চিকিত্সকের অবহেলা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
