সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

শাহবাজ সরকারের সামনে সংসদে বড় বিরোধী দলকে সামলানোর চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৯:৪৬

পাকিস্তানে সরকার গঠন নিয়ে অবশেষে সমঝোতায় পৌঁছেছে দেশটির অন্যতম বড় দুইটি রাজনৈতিক দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ও পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)। দরকষাকষি শেষে পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে মঙ্গলবার দুই দলের আলোচনার অবসান হয়।

ডনের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, পিপিপি ও পিএমএল-এনের মধ্যকার সমঝোতা মোতাবেক আগের সরকার ভাঙার সাত মাসের মধ্যে শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে আরেকটি জোট সরকার পেতে যাচ্ছে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে উভয় দল থেকেই মনোনীত করা হবে পিপিপি-র কো-চেয়ারম্যান আসিফ আলী জারদারিকে। জাতীয় পরিষদের স্পিকার হবেন পিএমএল-এন থেকে। আর সিনেটের চেয়ারম্যান, খাইবার পাখতুনখোয়া ও পাঞ্জাবের গভর্নরশিপ থাকবে পিপিপির কাছে।

বেলুচিস্তানেও দুই দল যৌথভাবে সরকার গঠন করবে। সরকার গঠনের জটিলতা নিরসন হলেও পিএমএল-এন সরকারের প্রতি পিপিপি-এর পূর্ণ সমর্থন থাকবে কিনা তোর কোনো নিশ্চয়তা নেই।

শুধু অনাস্থা ভোট কিংবা ব্যয় বিলের ক্ষেত্রে পিএমএল-এনের সদস্যদের ভোট দেবে পিপিপির সদস্যরা। বাকি সব কিছুর জন্য পিএমএল-এন তার নিজের অবস্থানেই থাকতে পারে।

এদিকে সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিলে যোগ দিয়েছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। সংখ্যার দিক থেকে দলটি হতে যাচ্ছে জাতীয় পরিষদের একক বিরোধী দল। পিটিআই কার্যতই সংসদের প্রধান বিরোধী দল হবে। এমনকী বিরোধী দলেও নেতাও পিটিআই থেকেই আসতে পারে।

এভাবে যদি আইন প্রণয়েনের ক্ষমতা বণ্টন করা হয় তবে খুব সম্ভবত শাহবাজ শরিফ সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ আসতে যাচ্ছে। এক সময় সংসদে বিরোধী ছাড়াই ক্ষমতায় ছিলেন তিনি।

আর এই চ্যালেঞ্জ শুধু সংসদেই নয় বরং তার দক্ষতারও পরীক্ষা। এর ফলে যে পরিস্থিতি তৈরি হবে তাতে তার সরকার জনসাধারণের বৈধতা সংকটের মুখোমুখি হতে পারে। কারণ তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ম্যান্ডেট চুরি করে ক্ষমতায় আসার অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে।

শাহবাজ শরিফ কি এমন পরিস্থিতিতে ক্ষমতা আশা করেন? তার সবচেয়ে বড় কাজ হবে তার আগের প্রশাসনের রেখে যাওয়া জঞ্জালগুলো সাফ করা, বিশেষ করে অর্থনীতিতে।

পাকিস্তানের জনগণের বড় একটি অংশ নির্বাচনের ফল নিয়ে ক্ষুব্ধ। ক্রমাগত মুদ্রাস্ফীতির কারণে নাগরিকরা প্রায় দেউলিয়ার পথে। এই পরিস্থিতিতে শাহবাজ শরিফ সরকার সহজেই পরিবর্তন আনতে পারবেন না। এতে করে তাকে সামনে জনগণের বড় ধরনের প্রতিরোধের মুখে পড়তে হতে পারে।

শাহবাজ শরিফ বলেছেন, তিনি পাকিস্তানকে ‘বাঁচাতে’ চান। তার সংকল্প কতদিন স্থায়ী হয় সেদিকে অনেকেই তাকিয়ে থাকবেন।

ইত্তেফাক/এসএটি