বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

তাড়াশে শ্রেণিকক্ষ সংকটে পাঠদান ব্যাহত

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:২০

সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের সাত পাড়া মিলে একটি গ্রাম নাদোসৈয়দপুর। এই গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে পাঁচটি। তার মধ্যে নাদোসৈয়দপুর মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রথম প্রতিষ্টা লাভ করে ১৯৪৬ সালে। এ বছর বিদ্যালয়টিতে পড়ালেখা করছে ৩৪২ জন ছাত্রছাত্রী। পাঁচটি বিদ্যালয়ের মধ্যে রেজাল্ট ভালো এ বিদ্যালয়ের। কিন্তু শ্রেণিকক্ষের চরম সংকট রয়ে গেছে বিদ্যালয়টিতে প্রতিষ্ঠাকাল থেকে। ফলে চরমভাবে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে নাদোসৈয়দপুর মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, ৩৪২ জন শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র ২টি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। বাধ্য হয়ে পুরোনো টিন কিনে একটি কক্ষ বাড়ানো হয়েছে। তা-ও টাকার অভাবে এক পাশে বেড়া দিতে পারিনি। এক শিফটের এ গ্রেডের বিদ্যালয়। অথচ শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে দ্বিতীয় শিফট চালু করা হয়েছে। শ্রেণিকক্ষ সংকটে চরমভাবে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও পড়ালেখায় পিছিয়ে পড়ছে।

প্রধান শিক্ষক আরো বলেন, প্রাক প্রাথমিক, ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম শ্রেণির জন্য ছয়টি ও শিক্ষকদের বসার জন্য একটি, মোট সাতটি কক্ষের প্রয়োজন বিদ্যালয়টিতে।

সহকারী শিক্ষক ছাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমাদের বসার কক্ষের মাঝখানে আলমিরা দিয়ে পার্টিশন করে প্রাক প্রাথমিক ও ৪র্থ শ্রেণির ক্লাস নেওয়া হয়। আরেক পাশে আমরা ৮ জন শিক্ষক বসে থাকি। এখানে নড়াচড়া কিংবা হাঁটাহাঁটি করা মুশকিল হয়ে পড়ে।’

বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম, ছামিউল আলম, বলে, ‘বেড়া ছাড়া টিনের ছোট্ট শ্রেণিকক্ষে আমাদের বসে ক্লাস করতে খুব কষ্ট হয়। তীব্র শীতের কনকনে বাতাস ঢুকে পড়ে। আমরা শীতে জড়সড়ো হয়ে থাকি। আবার বেলা বাড়ার সঙ্গে প্রখর রোদ এসে শরীরে লাগে। তখন গরমে ঘেমে অস্থির হয়ে পড়ি। সরেজমিনে দেখা যায়, পাকা ভবনের দুইটি কক্ষে প্রাক প্রাথমিক, ৪র্থ, ১ম ও ৫ম শ্রেণির ক্লাস হচ্ছে। পাশের টিনের ঘরে ২য় শ্রেণি ও ৩য় শ্রেণির ক্লাস হচ্ছে। বাকি শিক্ষকরা পাকা ভবনের এক কক্ষের এক পাশে বসে রয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুসাব্বির হোসেন খান উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় নাদোসৈয়দপুর মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি নতুন ভবন নির্মাণ হচ্ছে, কিন্তু ধীর গতিতে।

ইত্তেফাক/এএইচপি