বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

ইউক্রেনবাসীর স্বপ্ন ধ্বংস করতে পারবে না রাশিয়া

  • রুশ আগ্রাসনের দুই বছর পূর্তিতে দেশবাসীকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে আহ্বান জেলেনস্কির 
  • সংহতি জানাতে কিয়েভ সফরে একদল পশ্চিমা নেতা
  • ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার রাতভর হামলা  
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:০০

তৃতীয় বছরে গড়ালো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। যুদ্ধের দুই বছর পূর্তির দিন শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘আমরা এ যুদ্ধে জিতবো। ইউক্রেনের জনগণের স্বপ্ন ধ্বংস করতে পারবে না রাশিয়া। আমাদের একটি জাতি হিসাবে পুতিনের বাহিনীর বিরুদ্ধে এই লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’ 

কিয়েভের গোস্টোমেল বিমানবন্দরে এক অনুষ্ঠানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, আমাদের জীবনের ৭৩০ দিন ধরে আমরা যুদ্ধ করছি। আমরা এ যুদ্ধে জিতবো। সেদিন হবে আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর দিন। জেলেনস্কি আরও বলেন,  যেকোন স্বাভাবিক মানুষ চাইবে যুদ্ধের শেষ হোক। কিন্তু আমরা কেউই ইউক্রেনকে শেষ হতে দেব না। যুদ্ধ শেষ হবে আমাদের শর্তে। শান্তির সঙ্গে। জেলেনস্কি যখন এ ভাষণ দেন তখন তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডি ক্রু ও  ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লিয়ন। ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন জানাতেই শনিবার কিয়েভ সফরে যান এসব পশ্চিমা নেতা।

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি গেস্টোমেল বিমানবন্দরেই প্রথম হামলা করে রুশ সেনারা। যুদ্ধের দুই বছর পর সেখানে দাঁড়িয়ে জেলেনস্কি বলেন, দুই বছর আগে এখানেই আগ্নেয়াস্ত্র হাতে শত্রুবাহিনী অবতরণ করেছিল। আর দুই বছর পরে আমরা এখানে আমাদের বন্ধু এবং অংশীদারদের সাথে দেখা করছি।

এমন এক সময় পশ্চিমা নেতারা কিয়েভ গেলেন যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। কারণ তার দেশের গোলাবারুদ, অস্ত্র ও যুদ্ধ সামগ্রী কমে গেছে। সেই সাথে পশ্চিমা সহায়তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়েছে ইউক্রেন। কিয়েভ পৌঁছার পর, এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেইন লেখেন, যে কোনও সময়ের চেয়ে আরও শক্তভাবে আমরা এখন ইউক্রেনের পাশে আছি। দেশটি মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আর্থিক, সামরিক ও নৈতিক সমর্থন দিয়ে যাব আমরা।

কিয়েভ পৌঁছার আগে এক বিবৃতিতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, আমাদের যৌথ ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করছে ইউক্রেনীয়রা। আর সে কারণেই প্রথম দিন থেকেই ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়েছে কানাডা।

এ বছর জি-৭ জোটের সভাপতিত্ব করবে ইতালি। শনিবার ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, জোটের নেতাদের সাথে জেলেনস্কির ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করার কথা, যাতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ও ইউক্রেনকে অস্ত্র সহায়তার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা যায়। 

এদিকে, রুশ গুপ্তচর বিমান এ-৫০ইউ বিধ্বস্তের দাবি করেছে ইউক্রেন। শুক্রবার এক মাসে দ্বিতীয়বার এই ধরনের দাবি করলো দেশটি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক সূত্র জানিয়েছে, বিমানটিকে সম্মুখ ভাগ থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে রাশিয়ার শহর রোস্তভ-অন-ডন ও ক্রাসনোদারের মধ্যে ভূপাতিত করা হয়েছে।

রাতভর রাশিয়ার হামলা: ইউক্রেনের ওদেসা, দিনিপ্রোসহ বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।

দেশটির আঞ্চলিক গভর্নর বলেছেন, শুক্রবার রাতে বন্দরনগর ওদেসায় রাশিয়া টানা দ্বিতীয়বারের মতো ড্রোন হামলা চালালে একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় ৬ জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন।

ওদেসার আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ কিপার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে একজন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিপার সরকারি টিভিকে বলেন, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে তাঁরা তথ্য সংগ্রহ করতে পারছেন না। এ কারণে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না। তবে শেষ ইটটি সরানো পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চলবে। 

ইত্তেফাক/এএইচপি