মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

চট্টগ্রামে ডলু নদী দখল করে ধান চাষ

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৩:৩৪

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় ডলু বা টংকাবতী নদীসহ বিভিন্ন খাল বা ছড়ার বুক দখল করে বোরো ধানের চাষ করেছেন কৃষকরা। পাশাপাশি তারা খালের তীরে করছেন বাদাম ও শীতকালীন সবজি চাষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, লোহাগাড়ার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ডলু বা টংকাবতী নদীসহ চাম্বি, হাতিয়ার, সুখছড়ি, হাঙ্গর, জাংছড়ি, কৃলপাগলি ও থমথমিয়া খাল বা ছড়ার পানির প্রবাহ নেই। অনেক খাল শুকিয়ে গেছে। শুকনো খালের নরম ভেজা মাটিতে লাগানো হয়েছে ধানের চারা। এসব খালে জমে থাকা অল্প পানি এখন এখানকার কৃষকদের ভরসা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর লোহাগাড়ায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ২৯৬ হেক্টর। চাষ হয়েছে ৪ হাজার ২৭৫ হেক্টর। খালের বুকে ও খালের পাড়ে ধান চাষ হয়েছে ২৯৭ হেক্টর। এবারে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ব্রি ধান-৭৪, ব্রিধান ৮৮, ব্রিধান ৮৯ ও ব্রিধান ৯২ চাষ হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে কৃষকরা এবারে নতুনভাবে বঙ্গবন্ধু ধান ও শেখ রাসেল ধানের চাষ করেছেন। উপজেলার চুনতি ও পদুয়ায় কৃষকরা বঙ্গবন্ধু ও শেখ রাসেল ধানের চাষ করেছে।

কৃষকরা  জানান, পানির অভাবে টংকাবতীসহ বিভিন্ন খালের বুকে ও পাড়ে চাষ করা হয়েছে। খালের উৎপত্তিস্থলের বিভিন্ন জায়গায় পানি আটকানোর ফলে ভাটি অঞ্চলে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে খালের বুকে ধান চাষ করা হয়েছে।

লোহাগড়া উপজেলা কৃষি অফিসার কাজী শফিউল ইসলাম জানান, চাষের প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধিসহ কৃষিপণ্যের ভালো দাম থাকার কারণে খালের বুকে ও তীরে ধান চাষসহ বিভিন্ন সবজির চাষ করেছে কৃষকরা। অন্যদিকে ডলু-টংকাবতী লোহাগাড়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ খাল। এই দুই খালে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ থাকলে খালের দুই পাড়ের এলাকায় ধান ও সবজিসহ আরও রবিশস্যের চাষ বৃদ্ধি পেত। পাশাপাশি খালের উৎপত্তিস্থল থেকে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় খাল পাড়ের খালের বুকের অল্প পানিতে-খালের নরম ভেজা মাটিতে বোরো চাষ করেছে কৃষকরা। উপজেলার খালগুলো সংস্কার করা গেলে খাল পাড়ের কৃষকরা আরও বোরো চাষসহ বিভিন্ন শাকসবজির চাষ করে প্রচুর লাভবান হতো বলে তিনি জানান।

ইত্তেফাক/পিও