সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

রাজশাহী

আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে রেলের জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৮:১০

রাজশাহীতে এক আওয়ামী লীগ নেতা ও তার আত্মীয়ের বিরুদ্ধে রেলওয়ের জমি দখল করে কারখানা ও বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্তরা হলেন- রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড অওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম ও রেলওয়ের সাবেক কর্মচারী খাদেমুল ইসলাম। কামরুল ইসলাম ও খাদেমুল ইসলাম সম্পর্কে বেয়াই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমনের নিকটাত্মীয় হওয়ায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সেখানে কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে না। ক্ষমতাসীন দলের সম্পৃক্ততা ও কাউন্সিলর সুমনের নিকটাত্মীয় হওয়ায় তারা দাপট দেখান। রেলওয়ের জমি দখল করে কারখানা ও বাড়ি নির্মাণ করায় তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজন কিছু বলতে পারেন না কাউন্সিলরের ভয়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় রেলওয়ের অনেক জমি রয়েছে। রেলওয়ের জমিতে থাকা বস্তিসহ আরও কয়েকটি জায়গা মাদক ও মাদকসেবীরা নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে। এতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু এ ব্যাপারে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই।

এদিকে রেলওয়ের জমি দখলের বিষয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে যান। ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন করে কাউন্সিলর বলেন, কেউ জমি দখল করলে রেলওয়ে দেখবে আপনি কে?

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ১৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, হাজারাপুকুর এলাকায় রেলওয়ের পুকুর ভরাট করে কামরুল ইসলাম ও খাদেমুল ইসলাম সেখানে একপাশে কারখানা এবং আরেকপাশে বাড়ি নির্মাণ করেন। কামরুল ইসলামের কারখানার আরেক পাশে রেলওয়ের জমিতে দুই তলা পাকা বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন খাদেমুল ইসলাম।

রেলওয়ে শ্রমিক লীগের এক নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলাম ও রেলওয়ের সাবেক কর্মচারী খাদেমুল ইসলাম হাজরাপুকুর এলাকায় রেলওয়ের জমি দখল করে সেখানে কারখানা ও বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই।

অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলাম বলেন, রেলওয়ে জমি পেলে তা মেপে নেবে। এতে আমার কোনো সমস্যা নেই।

আরেক অভিযুক্ত রেলওয়ের সাবেক কর্মচারী খাদেমুল ইসলাম ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (কার্য) বাবুল আক্তার বলেন, আমরা পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছি। দেয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। কোনো স্থাপনা কাজের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে তা উচ্ছেদ করা হবে। দখলদারদের উচ্ছেদে আমরা দ্রুতই চিঠি ইস্যু করবো। তখন এস্টেট শাখা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ব্যবস্থা নেবে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) অসীম কুমার তালুকদার বলেন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। তবে কেউই রেলওয়ের জমি দখল করতে পারবে না। তদন্তে রেলওয়ের জমি দখলের বিষয়টি প্রমাণিত হলে দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। 

ইত্তেফাক/এবি