ভারতের সঙ্গে ঘোলাটে সম্পর্ক অসম্ভব: মালদ্বীপের বিরোধী নেতা

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২০:২০

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ওপর জোর দিয়েছেন মালদ্বীপের শীর্ষ বিরোধী নেতা। মালদ্বীপ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এমডিপি) নেতা ও মালদ্বীপের প্রবীণ কূটনীতিক আবদুল্লাহ শহীদ জোর দিয়ে বলেছেন, নতুন সরকার বৈদেশিক নীতির যতই পরিবর্তন করুক না কেনো ‘ভারতের সঙ্গে ঘোলাটে সম্পর্ক অসম্ভব।’

সান অনলাইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সাবেক প্রেসিডেন্ট (৬১) বলেছেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়ে সম্পর্ক রয়েছে। মিত্র হিসেবে ভারতের ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারে না মালদ্বীপ।’

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ মুইজ্জু ভারত বিরোধী প্রচারণা চালিয়েছে ক্ষমতায় আসার পর থেকে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।

চীনপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত মুইজ্জু চলতি মাসের শুরুর দিকে তার প্রথম বক্তৃতায় বলেছিলেন, ভারতীয় সামরিক কর্মীদের প্রথম দলকে ১০ মার্চের আগে মালদ্বীপ থেকে ফেরত পাঠানো হবে এবং বাকি দুটি বিমান চলাচল প্ল্যাটফর্ম ১০ মে এর আগে প্রত্যাহার করা হবে।

গত মঙ্গলবার মালদ্বীপের শীর্ষ বিরোধী নেতা নির্বাচিত হন শহীদ। তিনি ১৯৮৮ সালের ৩ নভেম্বর তামিল ভাড়াটেদের নেতৃত্বে মালদ্বীপে বিদেশি সামরিক অনুপ্রবেশের কথা স্মরণ করেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও তাদের সহায়তার কথা তুলে ধরেন।

তিনি জোর দিয়েছিলেন, ২০০৪ সালের সুনামি সংকটে ভারতই প্রথম সহায়তার হাত বাড়িয়েছিল। মালেতে পানি সংকটের কথাও স্মরণ করেন তিনি। সেসময় সংকটের চার ঘণ্টার মধ্যে পানি বহনকারী বিশেষ ফ্লাইট পাঠিয়েছিল ভারত। কোভিড মহামারীর সময় ভারতীয় সহায়তার কথাও স্মরণ করেছেন তিনি।

ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহের আমলে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন শহীদ।

প্রধান বিরোধী নেতা হওয়ার পেছনে ভারতের সমর্থন আছে কিনা এমন গুজবও উড়িয়ে দিয়েছেন শহীদ। কেননা মুইজ্জু প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার অভিযোগ, তার নিয়োগে ভারতের সমর্থন ছিল।

ভারতের লাক্ষাদ্বীপের মিনিকয় দ্বীপ থেকে মালদ্বীপের দূরত্ব মাত্র ৭০ নটিক্যাল মাইল। আর মূল ভূখণ্ডের পশ্চিম উপকূল থেকে দূরত্ব মাত্র ৩০০ নটিক্যাল মাইল এবং ভারত মহাসাগর অঞ্চলের (আইওআর) মধ্য দিয়ে চলমান বাণিজ্যিক সমুদ্রপথের কেন্দ্রস্থলে এর অবস্থান কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

মালদ্বীপ হল আইওআর-এ ভারতের প্রধান সামুদ্রিক প্রতিবেশী ও নরেন্দ্র মোদি সরকারের ‘সাগর’ (সিকিউরিটি অ্যান্ড গ্রোথ ফর অল ইন দ্য রিজিওন) এবং ‘নেইবার ফার্স্ট’ নীতির মতো উদ্যোগে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

ইত্তেফাক/এসএটি