সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

ঋণের চাপে ছেলে-মেয়েকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২১:০২

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ছেলে-মেয়েকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর সালমা বেগম (৩৫) নামের এক মা গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের উত্তর ইসলামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গতকাল রোববার সকালে নিজ বসতঘর থেকে একে একে মা, ছেলে ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আজ সোমবার পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

সালমা বেগম সৌদি প্রবাসী ওলি মিয়ার স্ত্রী। তাদের মেয়ে ছাইমুনা আক্তার (৯) চতুর্থ শ্রেণিতে ও ছেলে তাওহীদ হোসেন (৭) দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো। তাদের উদ্ধার করে গতকালই মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সালমা বেগমের স্বামীর পরিবারের রোজিনা আক্তার জানান, তিনি ঋণগ্রস্ত ছিলেন। বিভিন্ন এনজিও থেকে সুদে টাকা নিয়েছিলেন। রোববার সকাল ৯টার দিকে দু'জন এনজিওর লোক আসছিল কিস্তি নেওয়ার জন্য। তারা ঘরের দরজা বন্ধ পেয়ে ফিরে যায়। পরে জানালা ভেঙে দেখি সালমা ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছে। বাচ্চারা খাটের ওপর পড়ে আছে। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে।

রোজিনা আক্তার আরও বলেন, তার জানামতে ছয়টি এনজিও থেকে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন সালমা। এনজিওগুলো হলো- পল্লী, সাজেদা, এসএম, শক্তি, পেইজ ও আশা।

প্রতিবেশী সবুজা বেগম ও ঝর্ণা আক্তার জানান, সালমার স্বামী বিদেশ যাওয়ার পর যে পরিমাণ টাকা পাঠিয়েছেন, সে টাকায় ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি। এছাড়া তিনি কাজ করার সময় পড়ে গিয়ে কোমরে ব্যথা পেয়ে বেশ কিছুদিন অসুস্থ ছিলেন। ভালোভাবে কাজও করতে পারছিলেন না।

তারা জানান, ওই গ্রামের অধিকাংশ মানুষই ঋণগ্রস্ত। ঋণ নিতে হলে জামিনদার হতে হয়। সালমারাও দুই একটি এনজিওর জামিনদার হয়েছিলেন। টাকা না দিতে পারলে জামিনদারদের চাপ দেওয়া হয়।

সিরাজদীখান থানার ওসি মো. মুজাহিদুল ইসলাম জানান, প্রায় ৭ বছর আগে সালমা বেগমের স্বামী ওলি মিয়া চড়া সুদে ৮ লাখ টাকা ঋণ করে সৌদি আরবে যান। স্বামীর স্বল্প বেতনে তা শোধ হচ্ছিল না। ঋণের বোঝা বেড়ে যাওয়ার পাওনাদারদের চাপ সইতে পারছিলেন না ওই নারী। ঋণের টাকা দিনে দিনে বাড়তে থাকে।  ঋণের চাপ সইতে না পেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছি। তবে অন্য কোনো কারণে এ ঘটনা ঘটেছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর অনেকটা নিশ্চিত হওয়া যাবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।

ইত্তেফাক/এসকে